পুজোর বয়স ৪০৮

0
39

ইতিহাসের পুজো। কলকাতার প্রথম পুজো। তার সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে যাঁরা সেই সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের শুধু বরিষাতেই বাস হাজার দুয়েক পরিবারের শাখাপ্রশাখার। বরিষায় তাঁদের নয়টি বাড়ি। এই নয়টি বাড়িই এখন পরিবারের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এক একটা পাড়া হয়ে উঠেছে। প্রাচীনতম দুর্গাপুজো আটচালায়। প্রতিমার পিছনে তিনটি চালচিত্রে আঁকা দশ মহাবিদ্যার ছবি। দুর্গার একপাশে বসে থাকেন শিব, অন্যপাশে রাম। পুজো পান তাঁরাও। বিদ্যাপতির দুর্গাভক্তিতরঙ্গিনীতে দেবীর যে বর্ণনা আছে, সেইমতো প্রতিমার গাত্রবর্ণ হালকা সোনালি কিংবা লালচে। অসুর সবুজ রঙা। কার্তিক রাজবেশে।
১৬০৮ সালে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে নিষ্কর আট পরগনার জায়গির পাওয়ার পর রায় লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় মজুমদার চৌধুরী তৈরি করেন কাছারিবাড়ি। সেখানেই বানান চণ্ডীমণ্ডপ। ১৬১০ সালে পত্নী ভগবতীর দেবীর উদ্যোগে প্রথম পূজিতা হন সপরিবার দুর্গা। এই প্রথম দুর্গার সঙ্গে পুজো হয় লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক এবং গণেশের। এটাই কলকাতার প্রাচীনতম দুর্গাপুজো।
এখন তা থেকেই সাবর্ণ পরিবারের আটটি পুজো। আটচালার পুজো, বড় বাড়ি, মেজো বাড়ি, বেনাকি বাড়ি, কালিকিঙ্কর ভবন, বরিষার মাঝের বাড়ি। সপ্তম পুজো বিরাটি আর অষ্টমটি নিমতা পাঠানপুর বাড়ি। এখানে পুজোয় মিলে যায় শাক্ত, শৈব আর বৈষ্ণব এই তিনটি ধারাই।