অন্ধকার পর্যটন

0
40

শিল্প, ইতিহাস আর খাবরাদাবারের জন্য পর্যটকদের কাছে ইতালির কদরই আলাদা। ভ্যাটকান সিটি থেকে ভেনিসের গন্ডোলা, ফ্লোরেন্সের অনুপম শিল্পকর্ম থেকে সমুদ্রসৈকত ইতালিতে দেখার মতো আকর্ষণের অভাব নেই।
তবে এর বাইরেও একটা ইতালি আছে, যেখানে আপনি ঘুরতে যেতে পারেন। এটা গা ছমছমে ইতালি। দেখতে পারেন মুসোলিনির বাঙ্কার কিংবা একটা ছিন্ন হাতের আঙুল। এই অন্ধকার পর্যটন নতুন কিছু নয়। মধ্যযুগে পর্যটকরা অসংখ্য সমাধি দেখতে মাইলের পর মাইল হাঁটতেন। দেখতেন ধ্বংসস্তূপ। তারপরেও লোকে পয়সা খরচ করে আসতেন প্রকাশ্য রাজপথে মানুষের ফাঁসি দেখতে।
আজকের দিনেও লোকের কাছে অন্ধকার ইতালির আকর্ষণ কিছু কমেনি। যেমন রোমের কলোসিয়াম। তার মনমুগ্ধকর স্থাপত্য ছাড়াও কোলসিয়াম তো আদতে মৃত্যুরই একটা নাট্যমঞ্চ। যেখানে মানুষে মানুষে লড়াই হত শেষপর্যন্ত। এখানে একসময় রোজ ৬৫ হাজার মানুষ জড়ো হতেন ৪ লাখ মানুষ ১০ লাখ জানোয়ারের মৃত্যু উপভোগ করতে।
তেমনই ভলতেরা হাসপাতাল। ভুল চিকিৎসায় মানুষ মারার জায়গা। এখানে একটা দেওয়ালে রয়েছে অরেস্তো ফার্নান্দো নান্নেতি নামে এক রোগীর ছবি। কেন কেউ জানে না। তবে দেখলে গা ছমছম করবেই। কখনও ব্যবহার না করা মোদেনার পরিত্যক্ত একটি কবরস্থান।
ফ্লোরেন্সে রাখা গ্যালিলিওর অনামিকা। ফ্লরেন্সের সায়েন্স মিউজিয়াম কেন যে গ্যালিলিওর আঙুল রাখতে গেল তারও যুক্তি খোঁজা মুশকিল। সোনা আর কাচে তৈরি একটা পাত্রে রাখা আছে সেটি। ইতালির আধুনিক ইতিহাসে ১৯৮০ সালের উস্তিকা বিমান দুর্ঘটনা সবথেকে বিতর্কিত। সিসিলি সৈকতে ৮১ জন যাত্রীকে নিয়ে সমুদ্রে ডুবেছিল বিমানটি। কী করে সমু্রে ডুবল, তা নিয়ে চাপনউতোর থামেনি এখনও। রাকা আচে সেই বিমানের ধ্বংসাবশেষ।
ভিলা তর্লোনিয়ায় মুসোলিনির বাঙ্কার অন্ধকার পর্যটনের আরেক গন্তব্য। এখানেই বিমান হানার সময় লুকোতেন মুসোলিনি। দেখতে পারেন কাপুচিন গোলকধাঁধা। এখানে রাখা ১২৫০ দেহ। ষোড়শ শতাব্দী থেকে বিংশ শতকের গোড়া পর্যন্ত আনা হয়েছে দেহগুলি। কোনওটা পচে গিয়েছে, কোনওটা আধ পচা। আছে ডন জিওভানির দেহও, যাকে দেওয়ালে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।