হাত মন্দিরে ভিড়

0
46

ভোট এলেই ভিড় বাড়ে এমুর ভগবতী মন্দিরে। প্রতিষ্টিত দেবী পার্বতী নন, তার হাতের জন্যই ছুটে আসেন রাজ্যের ভোটপ্রার্থী, মনোনয়ন প্রত্যাশী আর তাদের চেলাচামুন্ডারা। পার্বতী যদি কৃপা করে হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন তাদের, এই আশায় হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে তারা।
কাইপথি অম্বালম নামেও পরিচিত পালাক্কাদের এই মন্দিরটি। কাইপথি অম্বালম মানে হাতের মন্দির। বিশেষত্ব হল, গর্ভগৃহে রয়েছে দুটি হাত। সেটারই পুজো হয়। দেবী দুর্গা এখানে পূজিতা হন হেমাম্বিকা রূপে। সকালে পুজো হয় সরস্বতীর রূপে, মধ্যহ্নে লক্ষ্মী হিসেবে আর সন্ধ্যায় দুর্গা হিসেবে।
এই হাত মন্দিরের খ্যাত দূরদূরান্তে ছড়িয়েছে চার দশক পুরানো একটি কাহিনিকে কেন্দ্র করে। লোককথা, ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার পর যখন ইন্দির গান্ধি ১৯৭৭ সালে হেরে গিয়ে গাই-বাছুর প্রতীক ছাড়তে বাধ্য হন, তখন তিনি শোনেন এই মন্দিরের কথা। সেই থেকেই হাত হল কংগ্রেসর প্রতীক। ১৯৮০ সালে ভোটে বিপুলভাবে জয়ী হওয়ার পর, ইন্দিরা ১৯৮২ সালের ১৩ ডিসেম্বর এসেছিলেন এই মন্দিরে। দেবীর হাতজোড়াকে ধন্যবাদ জানাতে। মন্দিরের পুরোহিত পি মোহনসুন্দরম জানাচ্ছেন, ইন্দিরা একটি বড় ঘণ্টাও উপহার দিয়েছিলেন।
গল্পটা এমন, পি চিদম্বরমের শাশুড়ি তামিল কবি সৌন্দর্য কৈলাশম এই মন্দিরের কথা ইন্দিরাকে জানান। তখন কেরলের কংগ্রেস নেতা কে করুণকরণের সঙ্গে কথা বলে দলের প্রতীক হিসেবে বেছে নেন একটি হাতকে।
দুই হাতের একটি দেবী পার্বতীর সাহসের প্রতীক, অন্যটি বিপদ কাটানোর ক্ষমতার। স্বভাতই সিপিএম নেতাদের ভিড় কম। তবে কংগ্রেস আর বিজেপি নেতাদের ভিড় এই মন্দিরে বারোমাসই। যে কোনও সঙ্কটে তাঁরা ছুটে আসেন হাত মন্দিরে। শুধু কেরলই নয়, পাশের তামিলনাডু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশের রাজনীতিকরাও আসেন এখানে।
এখন কেরলের কংগ্রেস নেতারা আদাজল খেয়ে লেগেছেন যাতে রাহুল গান্ধি একটিবার এই মন্দিরে আসেন।ফিরে যাহে কংগ্রেসের ভাগ্য, বিশ্বাস এমনটাই।