কেরলে রামের শরণে বাম

0
41

এবার ভগবান শ্রীরামচন্দ্রকে আশ্রয় করল সিপিএম। কেরলে ১৭ জুলাই থেকে একমাস রামায়ণ মাস পালন করবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)। ২৫ জুলাই হবে রামায়ণ নিয়ে আলোচনা। বুথস্তর পর্যন্ত পার্টিতে রামায়ণের ক্লাস হবে। রাজ্য কমিটির বৈঠকে দলের রাজ্য সম্পাদক শিবদাসনকে এই রামানুশীলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটা সনাতন রামের বদলে রামের মার্কসীয় ব্যাখ্যা। রাজ্যজুড়ে রামায়ণ প্রচারে দলের সংস্কৃত সংঘমের শিক্ষক ও সংস্কৃতজ্ঞদের কাজে লাগাবে। তাঁরা রামায়ণ ব্যাখ্যা করে বেড়াবেন, বিতর্ক করবেন। বাল্মিকী রামায়ণের সঙ্গে অধ্যাত্ম্য রামায়ণের পার্থক্য বোঝাবেন। আরএসএসের ক্রবর্ধমান প্রভাবের মোকাবিলাতেই এই সিদ্ধান্ত।
তিনবছর আগে কান্নুরে সিপিএম শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তীতে বাচ্চাদের কৃষ্ণ সাজিয়ে শোভাযাত্রা করে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। তারপর থেকে শোভাযাত্রা করে আসছে প্রতিবছরই। আরএসএস বালগোপালম শোভাযাত্রা করছে পাঁচ দশক জুড়ে। সমালোচনার মুখে গোড়ার দিকে শোভাযাত্রায় কৃষ্ণের পাশে নারায়ণগুরু, আয়ানকালি, ভগত সিং, গান্ধি, আবদুল কালামদের রাখলেও পরে হাঁটতে শুরু করে আরএসএসের পথেই।
গত কয়েক মাস ধরেই পার্টির তাত্ত্বিক নেতারা এজন্য সংস্কৃত শিক্ষকদের নিয়োগ করছেন। দলের শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে শিবদাসন ঘন ঘন বসছেন, যাতে একমাস ধরে রামায়ণ মালয়ালমে শিক্ষা ও ব্যাখ্যা করা যায়। রামায়ণের নানা পাঠ নিয়ে দলে এখন বিতর্ক চলছে।
আশির দশক পর্যন্ত পার্টির সদস্যরা মন্দিরে যেতে পারতেন না। তবে তাদের স্ত্রীরা যেতেন। এমনকী, ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের স্ত্রী অন্তরজনমও পুজোপাঠ করতেন। পরে ধীরে ধীরে সিপিএমের নেতারা মন্দিরে যেতে শুরু করেন। এমনকী, কংগ্রেস বা আরএসএসের নেতাদের মতো তারাও মন্দির কমিটিগুলিতে ঢুকতে শুরু করে দেন। যুক্তি দেওয়া হয়, মন্দিরে বহু লোকের সমাগম হয়। তাই সেখানে যাওয়া উচিত। দলের ৮০ ভাগ সদস্যই হিন্দু। তাদের দূরে ঠেলে দিতে নারাজ তারা।
একসময় দলের বিধায়ক এ পি আবদুল্লা কুট্টি হজে যাওয়ার তুমুল বিতর্ক হয়েছিল দলের মধ্যে। দলেরমন্দির বিষয়ক মন্ত্রী কড়কমপল্লি সুরেন্দ্রন সরকারি সফরে গিয়ে গুরুবায়ুর মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেওয়ায় নিন্দা করা হয়েছি তাঁকে।ক্ষমতায় এসে সিপিএমের সরকার উচ্চবর্ণের পশ্চাদপর হিন্দুদের জন্য পাঁচটি হিন্দু দেবশ্বম বোর্ডে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এই পাঁচটি দেবশ্বম তিন হাজার মন্দির পরিচালনা করে। এমনকী, দেবদেবীদের মাহাত্ম্য প্রচার করা লোকনৃত্য থেইয়মকেও তুলে ধরা হচ্ছে পার্টির সম্মেলনে।
কেরলে মধ্য জুলাই থেকে মধ্য আগস্টে রামায়ণ মাস পালন করা হয়ে থাকে। সব মন্দির ও হিন্দুদের বাড়িতে রামায়ণ পাঠ হয়ে থাকে। রামায়ণের আখ্যান মালয়ালমে ব্যাখ্যা করে সবাইকে শোনানো হয়। তাদের শাখা সংগঠনের মাধ্যমে সিপিএম এই কাজটাই করতে চায়। বিরোধীরা এটাকে সিপিএমের হিন্দু তোষণ বললেও অনড় বাম নেতারা। শ্রীকৃষ্ণের মধ্যেও সিপিএম এক জনপ্রিয় যাদব নেতা, এমনকি, পশুপালকদের বৈপ্লবিক নেতাকেও আবিষ্কার করেছিল। রামায়ণ কর্মসূচির জন্য পার্টি এখন যুৎসই স্লোগানের খোঁজ করছে। তবে তারা জয় শ্রীরাম বলে কিনা সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।