সিএএ নয়, পুরভোটে শাসকদলের দূর্নীতিই ইস্যু হবে, দাবি দিলীপ ঘোষের

0
200

সিএএ নয়, পুরভোটে শাসকদলের দূর্নীতি, অনুন্নয়ন ও গণতন্ত্রহীনতাই ইস্যু হবে বলে দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সবাপতি দিলীপ ঘোষ। দিন চূড়ান্ত না হলেও পুরভোট আসন্ন। সেই প্রেক্ষিতে এটাই ছিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সোজাসাপটা জবাব, স্থানীয় ভোটে সিএএ বা এনআরসির মতো ইস্যু চলে না। তার চেয়ে ওই এলাকার উন্নয়ন বা দূর্নীতিই বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। তাই আসন্ন পুরভোটে বিজেপির প্রচারেও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-নেত্রীদের দূর্নীতি ও এলাকার অনুন্নয়নের প্রসঙ্গই তুলে ধরা হবে বলেই জানিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলে পরিবারতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। দিলীপ ঘোষের কথায়, তৃণমূল কংগ্রেস ব্যক্তিকেন্দ্রীক বা নেতাকেন্দ্রীক রাজনীতি করে। তাই কর্মীদের রাস্তায় নামিয়ে আন্দোলন করানোর লোক নেই। এই কারণেই তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের লোকজনদের জায়গায় জায়গায় ঘেরাও হতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের যুক্তি দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, শাসকদলের অন্দরে যখন ডামাডোল বা গোষ্ঠীকোন্দোল হয় তখন নেত্রীকে বিজেপির জুজু দেখিয়ে সেটা থামানোর চেষ্টা করতে হয়। এই ব্যাপারে বিজেপির কোনও মাথাব্যাথা নেই। কারণ ধার করে নেতা এনে বিজেপি ভোটে জেতার রাজনীতি করেনা। গত পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি নিজের দমে আসন বাড়িয়েছে। তবে বিজেপিতে যে কেউই আসতে পারেন, আমরা সবাইকেই স্বাগত জানাবো। এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে বীরভূমের তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হুঙ্কারের কথা। বুধবারই তিনি বিজেপির বিধায়ক মনিরুল ইসলামকে হুঁশিয়ারি দেয়েছিলেন ভোটে দাঁড়ালে কুকুরের মতো তাড়াবেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কটাক্ষ, এটাই যদি তৃণমূলের সংস্কৃতি হয় তবে রাজ্যের গণতন্ত্রের পক্ষে খুবই চিন্তার বিষয়। তৃণমূল নেত্রী এসব আদৌ দেখতে বা শুনতে পান কিনা সেই নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ভোটের মুখে তৃণমূল নেত্রীর জনমোহিনী ঘোষণা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন তোলেন। দিলীপ ঘোষের দাবি, বিগত একমাসে তিনি বেশ কিছু প্রকল্প ঘোষণা করেছেন। যেমন আদিবাসী প্রবীন নাগরিকদের মাসে ১০০০ টাকা করে পেনসন দেওয়া হবে। এই সমস্ত টাকা কোথা থেকে আসবে সেটা বাজেটে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এছাডা় কারা কারা এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারবেন সেটা নিয়েও নির্দিষ্ট কোনও গাইডলাইন নেই বলেই দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। বৃহস্পতিবার কলকাতায় বিজেপির সদর দপতরে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন, দিন দুয়েকের মধ্যেই কলকাতা, হাওড়ায় পুরভোটের প্রচারে মেনে যাবে বিজেপি। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়বে জেলায় জেলায়। ফলে বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায় স্পষ্ট, বিজেপির মূল লক্ষ্য রাজ্যে শাসনের পরিবর্তন।