জেলায় জেলায় করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, উদ্বিগ্ন রাজ্য

0
742

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। শহর ছাড়িয়ে এবার গ্রামাঞ্চলেও করোনা সক্রমণ দেখা দিচ্ছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত দিনে হাওড়া জেলার ৭৬ জন, মালদা জেলার ৬৭ জন, হুগলি জেলার ৪৬ জন এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার ৩০ জন নতুন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এছাড়াও পুরুলিয়া, বাঁকুড়া মেদিনীপুর জেলা থেকেও প্রচুর নতুন কেস আসছে। এই আবহে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঢুকতে শুরু করেছে ডানকুনিতে। বৃহস্পতিবার ১৭টি ট্রেনে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, নাগপুর, সোলাপুর থেকে  কয়েক  হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার ফিরছে বাংলায়। গতকাল রাতেও নাগপুর থেকে দুটি ট্রেন শ্রমিকদের নিয়ে আসে। ডানকুনি স্টেশনে নামার পর ছোটো গাড়িতে চাপিয়ে শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়া হয় ডানকুনি লোকোমোটিভ কারখানা ক্যাম্পাসে। সেখান থেকে বাসে করে নিজ নিজ জেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ, শ্রমিকদের থার্মল স্ক্রিনিং বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করিয়েই তাদের গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্ধমান স্টেশনেও ভিনরাজ্য থেকে মোট ৮টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন এসেছে এখনও পর্যন্ত। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত জেলায় ৪০,০০০ জন পরিযায়ী শ্রমিক এসে পৌঁছেছে।

একইভাবে ১৪৪৬ জন যাত্রী নিয়ে গুজরাটের জামনগর থেকে পুরুলিয়ার ফিরল শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন পুরুলিয়ার ৭১ জন, বাঁকুড়ার ৭০জন, খড়গপুর ৩৫৬ জন এবং হাওড়ার ৯৪৯ জন। স্টেশনে নামার পরই তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়। আপাতত কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে তাঁদের। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত মোট ৩৭ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক পুরুলিয়ায় ফিরেছেন। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে কাঁটা পুরুলিয়ার বহু মানুষ। রাজ্য প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দুদিনে ১২টি শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন ঢুকেছে রাজ্যে। আরও ১৭টি ট্রেন বৃহস্পতি-শুক্রবারে চলে আসবে বাংলার বিভিন্ন স্টেশনে। উল্লেখ্য ঘূর্ণিঝড় আমফানের কারণে বাংলায় ২০ থেকে ২৬ মে কোনও ট্রেন ঢোকেনি।