পুরভোটের আগে জোট নিয়ে অকপট কংগ্রেস, দ্বিধায় বামফ্রন্ট

0
493

রাজ্য-রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্ব হারাচ্ছে দুই দল। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টায় ফের জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁরা। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব সেকথা প্রকাশ্যে ঘোষণাও করলেও মতপার্থক্য রয়েছে সিপিএমে। যদিএ সিপিএম নেতৃত্বও জানিয়েছে জোটবদ্ধ লড়াইয়ের কথা। তবু সেকথা সরাসরি বলতে নারাজ বামফ্রন্ট চেয়ার ম্যান বিমান বসু। কংগ্রেস-সঙ্গ নিয়ে বামেদের অন্দরে বিতর্ক বহুদিনের। কংগ্রেসকে সঙ্গী করা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে সিপিএমে। এবার সামনে পুরভোট। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, ফের জোট বেঁধে লড়বে বাম-কংগ্রেস। তবু বিমান বসুর কথাতেই স্পষ্ট, এখনও রয়ে গেছে বাম-অন্দরের সেই কাঁটা।

রবিবার ঝাড়গ্রামে অর্থ-সংগ্রহে নেমেছিলেন সিপিএমের নেতাকর্মীরা। ছিলেন বিমান বসুও। কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সাংবাদিকরা। সোজাসুজি কোনও উত্তরই দিলেন না বিমান বসু। কার্যত রাগতস্বরে জানালেন, ‘যারাই তৃণমূল ও বিজেপির বিরোধিতা করবে আমরা তাঁদের সঙ্গেই জোট বাঁধবো’। বিমান বসু একদিকে যেমন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য, তেমনই রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান। বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে বামফ্রন্টে। তবু, কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট নিয়ে সরাসরি উত্তর দিতে বিমান বসুর আপত্তি কোথায়, প্রশ্ন সেখানেই। অথচ, এই জোটের কথা অকপটে জানাচ্ছেন কংগ্রেসের প্রদেশ নেতারা। দলের এক রাজনৈতিক কর্মশালায় যোগ দিতে রবিবার মালদায় এসেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।

তিনি সোজাসাপটা বললেন, ‘কংগ্রেসের সাংগঠনিক ক্ষমতা কমেছে। তাই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করেই আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে ভোটে লড়াই করবে প্রদেশ কংগ্রেস। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘পিকে বলেছে পেশি শক্তি না ব্যবহার করে ভোট করতে। এখন দেখার তার পরামর্শ কতটা মানছে তৃণমূল’। শক্তি কমছে সিপিএমেরও এবং তা সর্বস্তরেই কমেছে। মেনে নিয়েছেন বিমান বসুও। স্পটতই দলের এই শক্তিক্ষয়টা মেনে নিতে পারছেন না বিমান বসুর মতো বর্ষীয়ান বাম নেতারা। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করলেও সরাসরি জবাব এড়াচ্ছেন তাঁরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম ভিতকে আরও মজবুত করতে সিপিএমের মূল লক্ষ্য বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে একত্রিত করে বৃহত্তর জোট গড়া। ভয়, সেখানে কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায় কংগ্রেস-সখ্যতা। তাই কংগ্রেসকে সঙ্গী করেও আশঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে বাম নেতাদের। কিন্তু অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁদের হাতে নেই বিকল্প কোনও পথও।