নাগের বাজার বিস্ফোরণের তদন্তে সিআইডি

0
239

নাগের বাজার বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তভার তুলে নিল সিআইডি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছেন সিআইডির আধিকারিকরা। এরপরেই নতুন করে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সিআইডির ডিজি প্রণব কুমার। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ নতুন করে ঘটনাস্থল ঘিরে দেয়ে অফিসাররা। যদিও প্রায় ২৪ ঘন্টা অরক্ষিত থাকার পরে নতুন কোনও প্রমাণ আর অক্ষত রয়েছে কিনা, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে বাইরের থেকেও সকেট বোমাটি আনা হতে পারে। মুর্শিদাবাদ, বীরভূম প্রভৃতি জায়গায় এধরনের বোমা বিস্ফোরণের নজির রয়েছে। এমনকি মাওবাদী অধ্যূষিত ঝাড়খন্ডেও এর আগেও এই ধরনের বোমা ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে অবশ্য টিফিন বক্সের প্রচলনটাই বেশি ছিল। কিন্তু মেকানিজমের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়ছে। এখন পর্যন্ত বোমার ডিটোনেটর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু পুলিশের অনুমান, যেকোনও ভাবেই হোক বোমাটি সক্রিয় করার ব্যবস্থা ছিল। কোনও সুতো কিংবা তারের অস্তিত্ব এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার সাধারণ সকেট বোমা আকারে ছোট সাইজের হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে যে পাইপটি ব্যবহৃত হয়েছিল সেটি আকারে অনেকটাই বড়। আবার বারুদের চিহ্নও মেলেনি। সম্ভবত কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল গ্লিসারিন ও চিনির মিশ্রণ। ইচ্ছা করেই কম তীব্রতার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল সে ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত। কারণ, এতে প্রাণহানির চেয়ে আহত হয় বেশি। ফলে আতঙ্ক বাড়ে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ‘কম প্রাবল্যে’র বিস্ফোরণ বলা হলেও বিস্ফোরণের ফলে শাটারের নিচে থাকা লোহার পাত ধনুকের মতো বেঁকে যায়। শাটারের পাশেই যেখানে বোমাটি রাখা ছিল, সেই জায়গাটি গর্ত হয়ে গিয়েছে। বাইরে থেকে বিস্ফোরণের ফলে ভিতরের দিকে ঢুকে গিয়েছে শাটারের মোটা পাত। পাশের বাড়ির পাঁচতলার জানালার কাচও ভেঙে গিয়েছে কম্পনে। গত বছর নভেম্বরেই কলকাতায় ধরা পড়েছিল আনাসারুল্লা বাংলা টিমের দুই জঙ্গি। তদন্তে নেমে পুলিশ দমদম থেকে কামারহাটি পর্যন্ত আরও কয়েকটি জঙ্গি ঘাঁটির সন্ধান পায়। সবমিলিয়ে কোনও সম্ভবনাই উড়িয়ে দিচ্ছেন গোয়েন্দা আধিকারীকরা।