বন্দিশিবিরে দশ লাখ

0
21

বন্দিশিবিরে আটক ১০ লাখ ইউঘুর মুসলিম। একদিন নয়, দীর্ঘদিন ধরে সবার অগোচরে তাদের নিয়ে যাচ্ছে চিনা প্রশাসন, আটকে রাখছে বিনা বিচার। তাদের অপরাধ, তারা সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী। চিনের গোটা ইউঘুর স্বশাসিত এলাকাই পরিণত হয়েছে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে।
রাষ্ট্রসংঘ চিন্তিত। তাদের জাতিগত বৈষম্য নির্মূল কমিটি সোমবার বৈঠকে বলছে। তারা জানাচ্ছে, তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য খবর রয়েছে, বন্দিশিবরের আটক রয়েছে ১০ লাখ লোক। চিন কিন্তু বরাবরাই এধরনের ক্যাম্পের কথা আস্বীকার করে এসেছে।
চিনেক জিনজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা উইঘুররা সংখ্যালঘু মুসলিম জাতি। সেখানকার জনসংখ্যার তারা ৪৫% । দক্ষিণের তিব্বতের মতোই জিনজিয়াংকেও স্বশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে চিন। সেখানে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের খবর করা, ছবি তোলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আর হিউম্যান ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলি রাষ্ট্রসংঘের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতেই রয়েছে লাখে লাখে উইঘুরদের বন্দি করার ঘটনা। জোর করে তাদের প্রেসিডেন্ট জি জিনিপংয়ের আনুগত্য স্বীকার করানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। উইঘুরদের বিশ্ব কংগ্রেসের অভিযোগ, তাদের বিনাবিচার আটক করা হচ্ছে, তাদের জোর করে কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান বলানো হচ্ছে। খাবার না দেওয়া, অত্যাচার করার ঘটনাও প্রচুর। বেশিরভাগ বন্দিরই কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। আইনি সাহায্য পাওয়ার অধিকারও নেই তাদের। এসবই হচ্ছে ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ রোখার নামে।
চিন অবশ্য কবুলই করেনি এসব। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনিয়াং বলেছেন, সব জাতি লোক জিংজিয়াংয়ে কেমনভাবে আছেন তা যে কেউ দেখে যেতে পারে। তারা শান্তিতে, তৃপ্তিতে রয়েছেন। উল্টে উইঘুর মুসলিমরা বলছেন, সেখানে তাদের মসজিদ ভাঙা হচ্ছে। দাড়ি রাখা, বোরখা পরা নিষিদ্ধ। সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে চলছে নির্যাতন। তাদের চলাচল সম্পূর্ণ নজরবন্দি। ২০১৬ সাল থেকে বেড়ে চলেছে এই নির্যাতন।