৭৫ উৎক্ষেপনে ব্যর্থতা মাত্র ৮

0
1303

শেষরক্ষা হয়নি। তীরে এসেও ডুবেছে তরী। তবু চন্দ্রযান ২ লিখে গিয়েছে গর্বের ইতিহাস। দুটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইসরো। একটুর জন্য হাতছাড়া হয়েছে একটি।
এতিদন চন্দ্রাভিযানে চাঁদের উত্তর মেরু আর বিষুবরেখা ঘিরেই ছিল যত তৎপরতা। কিন্তু চন্দ্রযান গিয়েছে চাঁদের উল্টো পিঠে, দক্ষিণ মেরুতে। এতদিন যেখানে কেউ যেতে পারেনি। সেখানে একটি রোভারকে ধীরে নামানোর চেষ্টাও করা হয়েছে। এতাবৎ আমেরিকা, চিন আর রাশিয়া, মাত্র তিনটি দেশ যা করতে পেরেছে।
এর আগে চন্দ্রযান-১ ২০০৮ সালেও পৌঁছেছিল সেখানে। তবে সেবার সফট নয়, হয়েছিল হার্ড ল্যান্ডিং। এবারও শেষপর্যন্ত ল্যান্ডার বিক্রম চাঁদের পিঠে নামল বটে, তবে তা বিজ্ঞানীদের পরিকল্পনামাফিক নয়। মাত্র ২.১ কিলোমিটার উপর থেকে তার সঙ্গে সব যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। তার নামাটা ঠিকঠাক হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি এখনও।
এখন পর্যন্ত যা জানা গিয়েছে, তা হল, বিক্রম আস্ত রয়েছে। তবে বেঁকানো অবস্থায়। গোটা চন্দ্রাভিযান নিখুঁত কাজ করেছে অরবিটার। বস্তুত অরবিটার কাজ করে চলেছে এখনও।
ঘটনাচক্রে এটা ইসরোর ৫০ বছর। এই পাঁচদশকে ইসোরর মহাকাশবিজ্ঞানীরা একের পর এক সাফল্য ছুঁয়েছেন। গর্বিত করেছেন দেশবাসীকে। তাঁদের প্রথম সাফল্য ছিল আর্যভট্ট। ৩৬০ কেজির এই উপগ্রহ উৎক্ষেপনে সাহায্য নিতে হয়েছিল রাশিয়ার। দিনটা ১৯৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল। মাত্র ৬ মাসের আয়ুর এই উপগ্রহই ভারতের চোখে বিশাল স্বপ্ন তৈরি করে দিয়েছিল, আমরাও পারি।
তারপর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরো মহাকাশে উৎক্ষেপন করেছে ১০৫টি উপগ্রহ। নিজেদের উৎক্ষেপন ব্যবস্থা। সেকান থেকেই উৎক্ষেপন করেছে ৭৫ বার। দুবার পৌঁছেছে চাঁদে। এমনকী, মঙ্গলেও পাঠিয়েছে নিজেদের তৈরি মঙ্গলযান।
সেখানেই শেষ নয়, অন্য ৩৩টি দেশের ২৯৭টি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে ইসরোই। তৈরি করে দিয়েছে ১০টি স্যাটেলাইট। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, যে ৭৫টি উৎক্ষেপন করেছে ইসরো, তার মধ্যে মাত্র ৮টি ব্যর্থ হয়েছে। সফল উৎক্ষেপনের পরেও কক্ষচ্যুত হয় ২টি উপগ্রহ। ইসরোর পরের লক্ষ্য মিশন গগনায়ণ। ২০২২ সালে তিন মহাকাশচারীকে নিয়ে মহাকাশে যাবে ইসরোর মহাকাশযান।