মাত্রই ৪০০ মিটার

0
3209

২.১ কিলোমিটার নয়, চাঁদের মাটির মাত্রই ৪০০ মিটার দূরত্বে হারিয়ে গিয়েছিল বিক্রমের সঙ্গে ইসরোর সব যোগাযোগ।
আসলে সময়ের হিসেবের গোলমাল হয়েছে সংযোগ ছিন্ন হওয়া থেকে গোনার ফলে। অথচ চাঁদে বিক্রমের অবতরণের গ্রাফচিত্রে পরিষ্কার হয়েছে আসল সময়। শনিবার রাত ১টা ৪০ মিনিটের একটু আগে অবতরণ শুরু করেছিল বিক্রম। এরপর সেটি নানারকম কায়দা করে গতি কমাচ্ছিল। উচ্চতা কমিয়ে এনে চেষ্টা করছিল চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ঠিক জায়গায় নামার।
১টা ৫০ মিনিট থেকে বেঙ্গালুরুর ইসরোর কম্যান্ড সেন্টারে নেমে আসে নিঃস্তব্ধতা। উদ্বেগের রেখা ফুটতে শুরু করে বিজ্ঞানীদের মুখে। মনে হচ্ছিল, কিছু একটা গোলমাল হয়েছে। পরের ২০ মিনিট কোনও খবর ছিল না।
২টো ১৮ মিনিটে ইসরো প্রধান কে শিবন মাইক হাতে নিয়ে বললেন, চন্দ্রপৃষ্ঠের ২.১ কিলোমিটার পর্যন্ত বিক্রম পরিকল্পনামতোই স্বাভাবিকভাবে নামছিল। তারপর থেকে তার সঙ্গে ইসরোর আর কোনও যোগাযোগ নেই।
কিন্তু গ্রাফচিত্র বলছে অন্য কথা। তাতে দেখা যাচ্ছে, ৫ থেকে ৩ কিলোমিটার থেকে বিক্রমের পরিকল্পিত যাত্রাপথ আর প্রকৃত যাত্রাপথ আলাদা হতে শুরু করেছিল। কিন্তু তা ছিল সামান্যই। ২.১ কিলোমিটার উপর থেকে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে দুটি পথ একেবারেই ভিন্ন হয়ে গিয়েছে। বিক্রমের প্রকৃত যাত্রাপথ ৪০০ মিটার উচ্চতায় হারিয়ে যায়।
অর্থাৎ চাঁদের ৪০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ইসরোর। বিক্রম বিপর্যয়ের পর সর্বত্র বলা হচ্ছে, ২.১ কিলোমিটার উচ্চতায় সে হারিয়ে গিয়েছে। শিবনের কথার ভুল ব্যাখ্যা থেকেই সম্ভবত এই বিভ্রান্তি। তিনি কখনই বলেননি যে ২.১ কিলোমিটারের পর যোগাযোগ ছিন্ন হয়েছে। বলেছিলেন ওই উচ্চতা পর্যন্ত তার গতিপ্রকৃতি ছিল স্বাভাবিক। তার পরে সংযোগ ছিন্ন হয়েছে।
একমাত্র বিক্রমকে চাঁদের মাটিতে পাওয়া গিয়েছে, এই বিবৃতি ছাড়া ইসরো এ পর্যন্ত একেবারেই মুখ খোলেনি।