আদালতে বসল বিজেপির রথের চাকা, চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে বিজেপি

0
1165

হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেল বিজেপির রথযাত্রার আর্জি। বিচারপতি জানিয়ে দিলেন,আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। যদি কোনও অশান্তি হয় তাহলে তার দায়ভার কে নেবে?এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ জানুয়ারি। তার আগে রথযাত্রা করা যাবে না। হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে বিজেপি। শুক্রবারই এই মামলার শুনানি।

রথযাত্রা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেল বিজেপি। বুধবার, কলকাতা হাইকোর্টে রথযাত্রার অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের মত জানাতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার, শুনানিতে রাজ্যের তরফে কোচবিহারে পুলিস সুপারের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার জানিয়ে দেয়, যে তারা অনুমতি দিচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্টে বন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী জানিয়ে দিলেন, এত অল্প সময়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। ৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে রথযাত্রা করা যাবে না। রাজ্য আগেই জানিয়েছিল কোচবিহারের এসপি রথযাত্রার অনুমতি দেননি। মূলত আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা মাথায় রেখেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানান রাজ্যের আইনজীবী। তিনি বলেন, নতুন করে মামলা করুক বিজেপি। বিজেপির আইনজীবী বলেন, ব়্যালি করা গণতান্ত্রিক অধিকার। সরকারের দায়িত্ব আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা। দেশের আইনে এটা আছে। রাজ্য কেন অনুমতি দিল না? বিচারপতি বিজেপির কাছে জানতে চান, যদি ব়্যালিতে কোনও সমস্যা হয় তার দায় কার? বিজেপি জানায়, এটা রাজ্যের দায়। কারণ আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি দেখে রাজ্যে। বিচারপতি বলেন, সেই দায় বিজেপিরও। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, তারা শান্তিপূর্ণ ব়্যালি করবে।

আগে একবার বাইক ব়্যালির জন্য আদালতে গিয়েছিল বিজেপি। তখন গঙ্গাসাগর মেলা ছিল। তা সত্ত্বেও আদালত অনুমতি দিয়েছিল। এবার রাজ্য অনুমতি না দেওয়ার কোনও যুক্তি নেই বলে মত বিজেপির। রাজ্যের দাবি, পুলিস অ্যাক্টের ৩১ নম্বর ধারায় আছে পুলিস যদি বোঝে সমস্যা হবে, তাহলে সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করার অধিকার আছে। কোচবিহারে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করেন, তাই এই রথযাত্রায় অসুবিধা হতে পারে। এরপর আদালতে ইন্টালিজেন্সের রিপোর্ট জমা দেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি জানান সেখানে কী ধরণের অসুবিধা হতে পারে। এসপি ও চিফ সেক্রেটারিকে দেওয়া ডিএম-এর চিঠিও আদালতে পেশ করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। বিচারপতি বলেন, এবিষয়ে প্রথম বলছে না বিজেপি। অনেক আগে জানিয়েছে ওরা। সরকার এতদিন কী করছিল? জানতে চান, কোচবিহারের পর কোথায় যাবে যাত্রা?

বিজেপির আইনজীবী বলেন, আলিপুরদুয়ার, তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি। বিচারপতি প্রশ্ন করেন বলেন, যাত্রার জন্য যদি কারও মৃত্যু হয়, সেই দায়িত্ব নেবে? এরপরেই বিজেপির আবেদন খারিজ করে রথযাত্রা অনুমতি দেননি বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী।