নানুরের কর্মীর দেহ হাইজ্যাক, হাইকোর্টে যাচ্ছে বিজেপি

0
459

এনআরএস হাসপাতালের মর্গ থেকে বিজেপি কর্মীর দেহ সোমবার রাতেই হাইজ্যাক করে বোলপুর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গেল পুলিশ। অথচ মঙ্গলবার সকালে খুন হয়ে যাওয়া নানুরের বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াইয়ের দেহ নিতে এনআরএস হাসপাতালে পৌঁছে যান তাঁর পরিবার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা অনুপম হাজরা সহ অনেকেই। মৃত বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াইয়ের পরিবারের প্রশ্ন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই পুলিশ কীভাবে দেহ মর্গ থেকে বের করতে পারে? অন্যদিকে, নানুর পুলিশের তরফ থেকে বোলপুর হাসপাতাল থেকে সৎকারের জন্য দেহটি গ্রহণ করার নোটিশ স্বরূপ গড়াইয়ের বাড়িতে সাঁটিয়ে দিয়ে এসেছে। যদিও ততক্ষণে তাঁরা কলকাতার উদ্দেশে বেরিয়ে গিয়েছেন। ফলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে নানুরের বিজেপি কর্মী-সমর্থক ও মৃতের পরিবারে। বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই কলকাতা পুলিশ দেহ হাইজ্যাক করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছেন। মঙ্গলবার মহরম উপলক্ষে কোর্ট ছুটি থাকায় বুধবারই এই মর্মে মামলা দায়ের করতে চলেছে রাজ্য বিজেপি। সূত্রের খবর, নিহত বিজেপি কর্মীর দেহ নিয়ে কলকাতার সদর দফতরে যাওয়ার কথা ছিল স্বরূপ গড়াইয়ের পরিবারের। সেটা নিয়েই আপত্তি ছিল কলকাতা পুলিশের। সেটা আটকাতেই পুলিশ দেহটি বোলপুরে পাঠিয়ে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।


মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেহ নিতে আসা বিজেপি কর্মীর পরিবার দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখায় এনআরএস হাসপাতালে। বিজেপি নেতা অনুপম হাজরাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা দেখা করেন এনআরএস হাসপাতালের ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাসের সঙ্গে। কিন্তু তিনি এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরই দেহচুরির অভিযোগ জানাতে এন্টালি থানায় পৌঁছে যান স্বরূপ গড়াইয়ের পরিবার। ফলে দেহ ফের রাজনীতির অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে। পুলিশের এই দেহ হাইজ্যাকের ঘটনায় বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। প্রসঙ্গত, গত ৬ সেপ্টেম্বর নানুরে পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন বিজেপি কর্মী স্বরূপ গড়াই। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও পর্যন্ত আলো চৌধুরী ও তুফান দাস নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।