হারিয়ে যেতে বসেছে বীরভূমের পট শিল্প, আর্থিক অনটনে শিল্পীরা

0
39

একসময় ভালোই আয় ছিল বীরভূমের পট শিল্পীদের। সেইসময় এই জেলার গ্রামেগঞ্জে পট শিল্পীও ছিল অনেক। বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে হারিয়ে যেতে বসেছে বীরভূমের পট শিল্প ও শিল্পী। তবে হাতে গোনা কয়েকজন পট শিল্পী থাকলেও চরম আর্থিক সংকটে তাঁদের জীবন যাপনে। যদিও সামান্য একটা ভাতা দেয় রাজ্য সরকার, কিন্তু সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলেই জানাচ্ছেন পট শিল্পীরা। আবার তাঁদের সামান্য শিল্পী ভাতা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয় বলে জনান্তিকে স্বীকার করে নিয়েছেন অনেকেই। শাসকদলের মিটিং মিছিলে ডাক পড়লেই ছুটতে হবে। না গেলে সামান্য যেটুকু ভাতা মেলে তাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় পদে পদে। এমনই আশঙ্কার কথা শোনালেন পট শিল্পী লাল্টু চিত্রকর।

বীরভূমের সিউড়ি থানার ইটাগড়িয়া গ্রামের পট শিল্পী লাল্টু চিত্রকর। বাপ ঠাকুরদার কাছ থেকে এই পটের হাতেখড়ি। স্মৃতির সরণী বেয়ে তিনি জানালেন, এক সময় এই পটের ছবির সঙ্গে পটের গান শুনতেও ভিড় হয়ে যেত গ্রামে গ্রামে। এখন আর কেউ সেই গান শুনতে চায় না, আক্ষেপ লাল্টু চিত্রকরের। শহরে ঘুড়ে ঘুড়ে কখনও একশো, দেড়শো বা দুশো টাকা আয় হয় প্রতিদিন। ফলে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো অবস্থা পট শিল্পীদের। তাই রাজ্য সরকারকে এই সব পট শিল্পীদের জন্য আরও মানবিক হওয়া দরকার বলে মনে করে স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন, কেনই বা প্রাচীন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সামান্য ভাতার জন্য শাসকদলের মিটিং-মিছিলে হাটতে হবে?