ভারতীকে সিআইডির নোটিস

0
662

সুপ্রিম কোর্টে মঙ্গলবার ভারতী ঘোষ মামলার শুনানির পর রাতেই সিআইডি হাজির তার নাকতলার বাড়িতে। বাড়িতে ছিলেন না ভারতী ঘোষ। তাই তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথা বলেই ফিরে যান সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তে সহযোগিতার জন্য নোটিস পাঠিয়ে ডেকে পাঠানোর পরেও না এলে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে। মঙ্গলবারই জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলার শুনানিতে বিচারপতি অশোক ভূষণ বলেছিলেন, ‘ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে কোনও দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট আগে নির্দেশ দিয়েছে ঠিকই। কিন্তু অভিযোগের তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য সমন পাঠাতে তো কোনও বাধা নেই। নোটিস পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হোক।’ ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বল তথ্য লোপাট, হিসেব বহির্ভূত সম্পত্তি, নোটবন্দির সময় সোনার বন্ধকী জাতীয় ব্যবসা, দু’কোটি টাকা পাচার সহ স্বামীর সঙ্গে অসাধু চক্র চালানোর মতো যাবতীয় অভিযোগগুলি তুলে ধরেছিলেন। তবে ‘পলাতক’ শব্দটিতে প্রবল আপত্তি তুলেছিলেন ভারতী ঘোষের আইনজীবী এন কে কওল।
আদালতের এই শুনানির পরই ভারতী ঘোষের বাড়িতে পৌঁছয় সিআইডি। তারা ভারতী ঘোষকে একটি নোটিস পাঠায়। মঙ্গলবার রাতে নাকতলার বাড়িতে নোটিস পৌঁছয় পুলিস। বাড়িতে ছিলেন না প্রাক্তন আইপিএস তথা বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষ। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। অভিযোগ করেন ভারতী ঘোষের স্বামী এমএভি রাজু। পাশাপাশি তাঁর দাবি, সিআইডির নোটিস গ্রহণ করেননি তিনি।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে এরাজ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। ভারতী ঘোষের মুখবন্ধের চেষ্টার অভিযোগ তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। একই সুর শোনা গেল বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্য এবং রাহুল সিনহার গলায়। প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষের দাবি, ভারতী একদা রাজ্য সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে দূরত্ব বাড়ার পরে কেন তাঁর বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে? প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসাররাও। এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সত্য কিনা তার উত্তর দেবে আদালত। তবে তাঁর বাড়িতে সিআইডির টিম ঘুরে যাওয়ায় নতুন করে রাজনীতির পারদ চড়িয়ে দিল।