কার্ল মার্কস সরণিতে গোলমাল

0
31

একসময় পূর্ব জার্মানিতে দেখার মতো জায়গা ছিল কার্ল মার্কস অ্যালি। কমরেডদের জন্য স্তালিনীয় ধাঁচে সার সার ফ্ল্যাটবাড়ির মাঝে এক ফালি ঝকঝকে বুলেভার্ড। এখন সেই জায়গাই হয়ে উঠেছে বার্লিনে ঢালাও বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কেন্দ্র।
এক নির্মাণ সংস্থা ওই বাড়িগুলির ৭০০টি ফ্ল্যাট আরেক বিল্ডারের কাছে বেচে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভাড়া বেড়ে যাবে। নভেম্বরে এনিয়ে ঝামেলার সূত্রপাত। সমাজতান্ত্রিক জমানার সরকারি ফ্ল্যাট বেসরকারিকরণ করা নিয়ে বিবাদ। বার্লিনের মেয়র জানিয়েছেন, কার্ল মার্কস অ্যালির পর সরকার আরও অনেক ফ্ল্যাট বেসরকারি হাত থেকে নিয়ে নেবে। সম্পত্তির বাজারের ফাটকা রুখতে এই পদক্ষেপ। এই উদ্যোগের ফলে ৯ থেকে ১০ কোটি ইউরো খরচ হবে সরকারের।
যেসব বড় কোম্পানির হাতে তিন হাজার ফ্ল্যাট আছে, তাদের হাত থেকে সেইসব ফ্ল্যাট নিয়ে নেওয়ার জন্য গণভোটের দাবিও উঠেছে। দাবিপত্রে ১ লাখ ৭০ হাজার সই জোগাড় হলেই বার্লিনের বাসিন্দাদের দাঁড়াতে হবে ভোটের লাইনে।
গোটা দুনিয়ার পাশাপাশি বার্লিনেও সম্পত্তির দর হু হু করে বাড়ছে। ফাঁকা জমি প্রচুর। সেখান মাথা তুলছে বহুতল। নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের দাম। বিশেষ করে, সম্পত্তির দাম বাড়ার চোট বেশি পড়েছে কার্ল মার্স অ্যালিতে।
মাঝখানে ৯০ মিটার চওড়া বুলেভার্ড। তার দুদিকে সাত থেকে নয়তলা সার সার বাড়ি তৈরি হয়েছিল পাঁচের দশকে। সেই সময়ের কমিউনিস্ট সরকার দুনিয়ার মন জয় করতে চেয়েছিল, চেয়েছিল নিজের শ্রমিকদেরও তাক লাগাতে। কার্ল মার্কস অ্যালের বৈশিষ্ট্য হল এর স্থাপত্য। এটা দেখেল মনে হয়, কেউ যেন মস্কো বা ওয়ারশতে আছে। এখানেই হয় সামরিক কুচকাওয়াজ।
বার্লিনের কেন্দ্রে আড়াই কিলোমিটারের এই মহল্লার নাম লোকে দিয়েছে বিয়ের কেকের মতো শ্রমিকদের প্রাসাদ। এখানে কারখানার ম্যানেজার থেকে শ্রমিক, সবাই থাকতেন। দুই জার্মানির মিলনের পর এইসব বাড়িঘর স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে তারা ভাগ ভাগ করে তা তুলে দিচ্ছে বেসরকারি হাতে।
এখানকার বাসিন্দাদের এখন ভাড়া দিতে হয় এক বর্গমিটারে ১০ ইউরো। কিন্তু নভেম্বরে বাসিন্দাদের কানে যায়, সম্পত্তির মালিক তিনটি ব্লক আরেক প্রমোটারের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তারপর থেকেই গোটা বার্লিনের ১ লাখ ১৫ হাজার ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মধ্যে ভাড়া বাড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা আদালতে গিয়ে বিক্রির ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে এসেছেন।
বাসিন্দারা বলছেন, পুরানো আমলের সেই সমাজাতান্ত্রিক জার্মানিই ভালো ছিল।