বেঙ্গালুরুতে বাঙালি শ্রমিক তাড়ানোর ডাক বিজেপি সাংসদের

0
521

কিছুদিন আগেই গুজরাতে শুরু হয়েছিল হিন্দীভাষী শ্রমিক খেদাও অভিযান। সেভাবেই এবার, বেঙ্গালুরুতেও বাঙালি খেদাও আন্দোলনের ডাক বিজেপি সাংসদের। প্রতিবাদে এগিয়ে এলেন সেখানকার সমাজকর্মীরা। ‘ইন্ডিয়া টুডে’ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ হাজার বাঙালি নির্মাণ শ্রমিকের বাস বেঙ্গালুরুর কুন্দলাহাল্লি লেক এলকায়। টিনের ঘর তৈরি করে সেখানে রয়েছেন তাঁরা। পুরুষরা নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। আর মহিলাদের বেশিরভাগই পরিচারিকার কাজ করেন। এলাকটি মহদেবপুরা লোকসভার মধ্যে পড়ে। এবার সেখানকার বাঙালি শ্রমিকদের বিতাড়নের ডাক দিলেন বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ লিম্বাভালি। ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৩০ নভেম্বর। একটি টুইট করে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে আসা এই সমস্ত শ্রমিকই অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ থেকে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন সেখানে। দেশের পক্ষে এরা হুমকি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি। অবিলম্বে তাঁদের ফেরত পাঠানোর জন্য বিশেষ কেন্দ্র খোলা হচ্ছে।’ আরেকটি টুইটে ঠিকাদারি সংস্থাগুলিকেও হুমকি দেন, এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কেউ যদি এদের কাজে নিযুক্ত করে, পরিণাম ভাল হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন অরবিন্দ। অভিযোগ, তারই মদতে পুরসভা ও পুলিশ টিনের গুমটিগুলি ভেঙে দেওয়া শুরু করে। গৃহচূত্য হন বেশি কিছু শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই ছুটে আসে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীরা। শ্রমিকরা তাঁদের জানান, তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড প্যান কার্ড সবই রয়েছে। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। পেটের টানে কাজ করতে এসেছেন বেঙ্গালুরুতে। তা সত্ত্বেও তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় সমাজকর্মী বিজয়কুমার সিথাপ্পা বলেন, এধরনের ঘটনা চূড়ান্ত অমানবিক। এটা মেনে নেওয়া যায় না। কোনও লিখিত অনুমতি ছাড়া এধরনের কাজ করা যায়না। এই মানুষগুলো এখন কোথায় যাবে? অনুপ্রবেশকারী কিনা, সেটা তদন্ত করবে প্রশাসন। কিছু যেমন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, তেমনি বিহার ও উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকও রয়েছেন এখানে। এদের কাছে সমস্ত ভারতীয় নথিই রয়েছে। তাহলে, আগে বিজেপি সাংসদই প্রমাণ করুক এসব জাল? এরা ভারতীয় নন? যিনি অভিযোগ তুলেছেন, তিনিই প্রমাণ করুন। ১০ বছর ধরে এখনকার ক্ষমতায় রয়েছেন অরবিন্দ। এতদিন পরে মনে হল, এরা বাংলাদেশী?সেই সঙ্গে পুরসভার কাজেরও সমালোচনা করেন। একই দাবি জানান উপস্থিত অন্যান্য বাসিন্দারাও। সম্মিলিত প্রতিবাদে কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন মেয়র।