হারিয়ে যাচ্ছে কাঁসা শিল্প

0
57

বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ার কাঁসা শিল্প ধুঁকছে। অস্তিত্বও বিপন্ন হতে বসেছে এই কাঁসা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বংশপরম্পরার পেশা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করেন কাঁসার শিল্পীরা। কাঁসা গলিয়ে নানা ধরনের থালা, বাটি, জামবাটির মতো সামগ্রী শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় ফিরে পায় নতুন আকার। লবণদানি, কলসি, থালা বালতি ইত্যাদি কাঁসার এইসব জিনিসপত্র যেমন গ্রামবাংলার বিয়েবাড়ি এবং পুজোয় আজও অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস।
স্টিলের জিনিসের রমরমা বাজারে কাঁসার চল কমেছে অনেকটাই। তবুও ঐতিহ্যের কাঁসার জিনিস আজও গুরুত্ব পায় পুজো আর নিয়মের বাঁধুনিতে বাঁধা বিয়েবাড়িতে। এই শিল্পের সঙ্গে আগে জড়িয়ে ছিল ৫০০ এর মতো ইউনিট। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ইউনিট কমতে কমতে ৩৫০ এ দাড়িয়েছে। এখানে প্রায় তিনশো পরিবার এই পেশায় সরাসরি যুক্ত। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য না মেলায় এখন অনেকেই রাজ্য তথা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে অভাবের তাড়নায়।
শিল্পীদের হাতের তৈরি কাঁসা–‌পিতলের জিনিসের খ্যাতি বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা পর্যন্ত বিস্তৃত। শিল্পীরা জানান, এই শিল্প ধীরে ধীরে লুপ্তপ্রায় হতে চলেছে। কাঁচা মালের দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিক্রিবাটা অনেক কমে গেছে। কাঁচা মাল রপ্তানির ক্ষেত্রে তাদের পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। রাজ্য সরকার একটিবারের জন্য তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকায়নি। বারবার রাজ্য সরকারকে জানিয়েও মেলেনি কোনও আর্থিক সহায়তা।
এক শ্রেণির ফড়ে কাঁচামাল হিসেবে পুরনো কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে যান। সেইসব জিনিস হাঁপরশালায় গলিয়ে মাটির ছাঁচে ঢেলে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় নতুন করে তৈরি হয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। একটি হাঁপরশালায় একবারে ৬টি জামবাটি তৈরি হতে পারে। তার জন্য সময় লাগে ৩ দিন। শিল্পীরা যদি নিজেরা কাঁচামাল দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে জোগান দিতে পারতেন, তাহলে তাঁরা দুটো বেশি পয়সার মুখ দেখতে পেতেন।