পলাশির যুদ্ধ আর দুর্গাপুজো

0
57

দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পলাশির যুদ্ধ। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুনের সেই যুদ্ধের সঙ্গে কলকাতার যোগ, আর সেই বিচিত্র যোগের থেকেই সূচনা এক অকাল উৎসবের। ইতিহাস এমনটাই বলে।
মীরজাফরের বেইমানিতে মাত্র আধ ঘণ্টায় পলাশির আম্রকুঞ্জে ভারতের ভাগ্য বদলে যাওয়ার পর লর্ড ক্লাইভ চেয়েছিলেন এই বিরাট জয়ের জন্য পরম করুণাময় প্রভু যিশুর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে। জাঁকজমক করে মোচ্ছব করতে। কিন্তু শহর কলকাতায় তখন একটিই চার্চ, যেটি সিরাজের বাহিনী ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল।
তখন এগিয়ে এসেছিলেন ক্লাইভের পার্শি অনুবাদক এবং কেরানি বাঙালি জমিদার নবকৃষ্ণ দেব। তাঁর পরামর্শেই তাঁর শোভাবাজারের বাড়িতে বিরাট করে হয়েছিল দেবী দুর্গার পুজো। উপলক্ষ, ক্লাইভের পলাশি বিজয়। রাজ্য ঝেঁটিয়ে ব্রাহ্মণ পুরোহিতদের এনে জড়ো করে চলেছিল খানাপিনা আর দেদার মোচ্ছব।
লোকে বলে, সেই থেকেই কলকাতায় শুরু দুর্গাপুজোর। শোভাবাজার রাজবাড়ির সেই পুজো আজও আছে। প্রাচীনেরা এখনও সেই পুজোকে বলেন, কোম্পানির পুজো। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে মনে রেখে।
তবে সংশয়ও আছে। কেননা নবকৃষ্ণ ক্লাইভের মুন্সি হয়েছিলেন ১৭৫৭ সালের পরেই। সে যাই হোক, এটা ঠিকই শোভাবাজারের দেববাড়ির পুজো থেকেই দশভুজার প্রবেশ বাঙালি বনেদি জমিদার বাড়িতে। কোম্পানির প্রতিপত্তি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়েছে পুজোর জৌলুস। কালকর্মে শরতের অকাল বোধনই হয়ে উঠেছে হিন্দু বাঙালির প্রধান উৎসব।
আর নব্য জমিদারদের মুরোদ দেখানোর উপলক্ষও হয়ে উঠেছিল দুর্গাপুজো। কার কত পয়সার জোর তার অশ্লীল প্রদর্শনী। লখনউ থেকে বাছা বাছা বাঈজি আনানো থেকে শুরু করে লাখ লাখ টাকার আতশবাজি পোড়ানো, পিঁপে পিঁপে হুইস্কি, শ্যাম্পেন দিয়ে কোম্পানির সাহেবসুবোদের আপ্যায়ন করার প্রতিযোগিতায় কেউ কারও থেকে পিছিয়ে থাকতেন না। কে বড়লাটকে পুজোয় প্রধান অতিথি করে আনতে পারেন সেদিকে নজর থাকত সবারই।