মা ইলিশ বাঁচাতে

0
119

মা ইলিশ বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকার উপকূলের ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় শনিবার রাত বারোটা থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। মৎস্য দফতর জানিয়েছে, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমা ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে ডিম ছাড়ার জন্য ৭০-৮০ ভাগ মা ইলিশ গভীর সাগর ছেড়ে নদীর মিঠে জলে চলে আসে।

এ বছরের ২৪ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। পূর্ণিমার আগে সাগর ছেড়ে নদীতে ঢোকার এবং পূর্ণিমার পরে নদী ছেড়ে সাগরে ফেরার সময় জেলেদের জালে ধরা পড়ে মা ইলিশ। তাই মা ইলিশের আসা-যাওয়া নির্বিঘ্ন করতে পূর্ণিমার আগে ১৭ দিন ও পরে ৪ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধ করা হয়েছে। এই ২২ দিন ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন ও মজুদ করা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মৎস্য দফতর ছাড়াও কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ এই তদারকির দায়িত্বে থাকবে।

বাংলাদেশের প্রজনন পয়েন্টগুলি হল যথাক্রমে উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহেরখালি থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গন্ডামারা পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমউদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমউদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে পটুয়াখালির কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলি। এই জলসীমার জেলাগুলো হচ্ছে- বরিশাল, পটুয়াখালি, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চাঁদপুর, বাগেরহাট, শরিয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুস্টিয়া লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালি, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও রাজশাহি।

এই সময় তালিকাভুক্ত প্রত্যেক জেলে পাবেন ২০ কেজি করে সরকারি চাল। মৎস্যজীবী ও আড়তদার এবং জনপ্রতিধিদের নিয়ে দফায় দফায় সচেতনামূলক সভা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গঠন করা হয়েছে টাস্কফোর্স। অন্য বিভাগের মৎস্য দফতর থেকে ৩১ মৎস্য কর্মকর্তাকে ২২ দিনের ডেপুটেশনে বরিশালে পাঠানো হয়েছে। ২২ দিনের কার্যক্রম তদারকি করতে দুটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।