ব্যান্ডেল চার্চের মাস্তল

0
254

রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের উদ্যোগে আবারও সকলের দেখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হল ব্যান্ডেল চার্চের ঐতিহাসিক মাস্তুল। কথিত আছে, ১৬৫৫  খ্রিস্টাব্দে বঙ্গোপসাগর থেকে যাওয়ার সময় এক পর্তুগিজ জাহাজ ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে সুবিশাল সেই জাহাজের সবাই যখন ভাবছে বাঁচার কোনওরকম উপায় নেই, ঠিক তখনই জাহাজের ক্যাপ্টেন মাদার মারিয়ার শরণাপন্ন হন।
প্রার্থনার সময় তিনি মারিয়াকে বলেন এই ঝড় থেকে যদি আমরা বাঁচতে পারি তাহলে যাত্রাপথে সবার প্রথম যে গির্জা পড়বে সেখানে জাহাজের একটি মাস্তুল আমি দান করব। সেদিন প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে বাঁচার পর কথা রেখেছিলেন ক্যাপ্টেন। এবং সেই কথা মতো যাত্রাপথে প্রথম গির্জা হিসাবে পড়া ব্যান্ডেল চার্চে জাহাজের একটি কাঠের মাস্তুল দান করেন। ১৬৫৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সেই মাস্তুলটি ব্যান্ডেল চার্চের সামনে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে ছিল।
কিন্তু কালের নিয়মে বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিল বছরের পর বছর রোদ, ঝড়, জল সহ্য করা মাস্তুলটি। ২০১০ সালের ৯ই মে এক ঝড়জলের সন্ধ্যায় মাস্তুলটির উপরে একটি গাছ ভেঙে পড়ায় মাস্তুলটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ঐতিহাসিক সেই নিদর্শনকে আর কোনভাবেই মাথা তুলে হয়ত দাঁড় করানো যাবে না বলে ভেবেছিলেন ব্যান্ডেল চার্চ কর্তৃপক্ষ।  মাঝের কয়েকটি বছর ব্যান্ডেল চার্চ আসা দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক এই মাস্তুল দেখতে পারেননি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খবর শোনার পরই যোগাযোগ করেন চার্চ কর্তৃপক্ষের  সঙ্গে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার পরই বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের হাতে থাকা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এর আওতাভুক্ত রাজ্যের পুরাতত্ত্ব ও সংরক্ষণ দপ্তর উঠেপড়ে লাগে। রাজ্যের পূর্ত দপ্তরের সহযোগিতায় ঐতিহাসিক সেই মাস্তুলটির অংশগুলিকে একত্রিত করে সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফের আগের চেহারায় ফেরানো হয়।
তবে এবারে আর খোলা আকাশের নীচে নয়, ব্যান্ডেল চার্চেই মাস্তুলের জন্য আলাদা একটি কাচের ঘর করে তার ভিতর শায়িত অবস্থায় সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে মাস্তুলটিকে। শুক্রবার আজ ফিতে কেটে সেই ঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পুরাতত্ত্ব বিভাগের রসায়নবিদ দিলীপ দত্তগুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন চার্চের ফাদার ফ্রান্সিস, হুগলি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক মন্দাক্রান্তা মহলানবিশ এবং পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা। শুধু করে দেওয়াই নয়, এই ঘর এবং মাস্তুলের রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবার থেকে রাজ্য সরকারের।