বাবুঘাটে মিনি ‘গঙ্গাসাগর’

0
253

রাত পোহালেই মকর সংক্রান্তি। সেই উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থী আসতে শুরু করেছেন সাগর মেলায়। ‘সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার’, এই মন্ত্রকে সামনে রেখেই পূণ্যার্থীরা ভিড় জমান গঙ্গাসাগরে। কারণ সেখানে পৌঁছানো খুব সহজ কাজ নয়।
প্রথমে কলকাতা থেকে কাকদ্বীপ প্রায় ৯০ কিমি সড়ক বা রেলপথে গিয়ে ২৩ কিমি জলপথ পেরিয়ে সাগরদ্বীপে পৌঁছতে হয়। এরপর সাগরের কচুবেড়িয়া ঘাট থেকে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রমে যেতে হলে পাড়ি দিতে হবে আরও ১৮ কিমি সড়ক পথ। ফলে দেশবিদেশ থেকে পূণ্যার্থীরা প্রথমে কলকাতায় এসেই জমায়েত হন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মকর সংক্রান্তির আগেই গঙ্গাসাগরে পৌঁছেছেন ১৩ লক্ষ পূণ্যার্থী। গঙ্গাসাগরে যাওয়ার আগে বেশিরভাগ সন্ন্যাসী ও ভিনরাজ্যের তীর্থযাত্রীরা চলে আসেন কলকাতার বাবুঘাটে।

আর কলকাতার বাবুঘাটে হয় নানা ভাষা, নানা মত, নানা পরিধানের জমায়েত। সেইসঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলার প্রধান আকর্ষণ নাগা সন্নাসীদের ভিড়ও জমে প্রথমে জমে ওঠে কলকাতার বাবুঘাটে। তাঁদের দেখতেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। ফলে প্রতিবছরের মতো এবছরও বাবুঘাটকে সাজিয়ে তুলেছে রাজ্য প্রশাসন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেমন আঁটসাঁট করা হয়েছে। তেমনই বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা চালু করা হয়েছে বাবুঘাটে। প্রচুর সিসিটিভি ক্যামেরায় যেমন চলছে কড়া নজরদারি, তেমনই মেডিকেল ক্যাম্প ও পর্যাপ্ত পানীয় জল ও মোবাইল শৌচাগার রাখা হয়েছে জরুরি ভিত্তিতে।
বিহার, অসম, ঝাড়খন্ড, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাত থেকে এসেছেন প্রচুর তীর্থযাত্রী। তাঁদের কথা মাথায় রেখে বাবুঘাট থেকে প্রচুর বাসের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য পরিবহন নিগম। সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে নাগা সন্ন্যাসীদের জন্য সংরক্ষিত তাঁবুগুলিতে। সোমবার সকাল থেকেই অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন, আশীর্বাদ নিচ্ছেন। এককথায়, বাবুঘাট যেন মিনি গঙ্গাসাগরে পরিণত হয়েছে।