বৈশাখী-মমতা বৈঠকের পরই দায়িত্ব গেল রত্নার, তবে কি ফিরছেন শোভন?

0
2615

বৃহস্পতিবারই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এর দেড়দিনের মাথায় শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে নাটকীয় মোড় বঙ্গ রাজনীতিতে। একদা তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা কলকাতার প্রাক্তন মহানাগরিক ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও পদ্মশিবিরে নাম লেখানোর পর থেকেই রাজনীতির থেকে বহু দূরত্ব বহু গুণ বাড়িয়েছেন শোভন। এরমধ্যেই বেশ কয়েকবার তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেও কোনও দিকেই সক্রিয় হননি তিনি। তবে তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সামনে এসে দৌত্য করেছেন শাসকদলের সঙ্গে। কখনও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় তো কখনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ফলে রাজনীতি থেকে শতহস্ত দূরে থাকলেও বঙ্গ রাজনীতিতে সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছেন শোভনবাবু। গত সপ্তাহেই শোভনের রাজনৈতিক ধাত্রীগৃহ বেহালা-পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে ‘বাংলার গর্ব মমতা’ কর্মসূচির যাবতীয় দায়িত্ব তৃণমূল তুলে দিয়েছিল তাঁরই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। ঘটা করেই তৃণমূলের মহাসচিব রত্নাকে এই দায়িত্ব দিয়ে বলেছিলেন, এবার থেকে এই এলাকায় তৃণমূলের প্রচার ও সংগঠনের দেখভাল রত্না করবে। ফলে সকলেই ধরে নিয়েছিল তৃণমূলে ফেরার রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল শোভনের। এই সুযোগে তাঁকে ফিরে পেতে আসরে নেমে পড়ে বিজেপিও। বিজেপির সর্বোচ্চ স্তর থেকে যোগাযোগ করা হয় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই আবহে ফের সামনে আসেন শোভন-বান্ধবী, সরাসরি কথা বলেন তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে।

এরপরই নাটকীয় পট পরিবর্তন হল শোভন পর্বের। এক সপ্তাহের মধ্যেই রত্নার থেকে বেহালা-পূর্বের দায়িত্ব কেড়ে তুলে দেওয়া হল শোভন ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষের হাতে। একে মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। রত্না চট্টোপাধ্যায় দলের দায়িত্বে থাকলে তিনি দলে ফিরবেন না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন স্বামী শোভন। তাই রত্নাকে দায়িত্বে এনে শোভনকে পরোক্ষে বার্তা দিয়েছিল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চালেই শোভনের জোড়াফুলে ফেরার রাস্তা পরিষ্কার করল তৃণমূল। জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছেন বৈশাখী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘বাংলার গর্ব মমতা এই কথাটা প্রত্যেক তৃণমূল কর্মীর হৃদস্পন্দনে রয়েছে। সুতরাং এই কর্মসূচির ঝান্ডা কার হাতে ছিল বা এখন কার হাতে থাকবে, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হল স্লোগানটাই’। সামনেই পুরভোট, কলকাতায় ফিরহাদ হাকিমের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য মুখ নেই বঙ্গ বিজেপির। সেখানে শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপির হয়ে ময়দানে নামলে সমস্যায় পড়ে যাবে শাসকদল। তাই প্রায় বছর দেড়েক রাজনীতির বাইরে থাকা শোভনকে নিয়ে দড়ি টানাটানি দেখে বোঝা যাচ্ছে বঙ্গ রাজনীতিতে এখনও কতটা প্রাসঙ্গিক শোভন চট্টোপাধ্যায়।