আদিবাসী মন্ত্রেই দুর্গাপুজো করেন সরস্বতী হাঁসদা

0
266

সর্ব মঙ্গল মঙ্গল্যে শিবে সর্বার্দ্ধ্য সাধিকে।
শরন্যে ত্রম্বকৈ গৌরী নারায়নী নমস্তুতে।।
শ্রী শ্রী চন্ডীর এই স্তোত্র দুর্গা মন্ত্র বলে জানি। কিন্তু বাঁকুড়ার হীড়বাঁধের প্রত্যন্ত দোমোহানী গ্রামের মা দুর্গা পুজো পান ‘মারাং বুরু যাহা ইয়ুব মায়েন’ মন্ত্রে। কারণ আদিবাসী সমাজে মূর্তি পুজোর প্রচলন নেই। তাই আজ থেকে ১৫ বছর আগে যখন আদিবাসী তরুণী সরস্বতী হাঁসদা দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন তখন অনেক ঝড়-ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু দিনে দিনে এই পুজোই বাঁকুড়ার আদিবাসী অধ্যুষ্যিত এই গ্রামের অন্যতম উতসব। আজকের মাঝ বয়েসী সরস্বতী হাঁসদার কথায়, মন থেকে প্রার্থনা করলে ঈশ্বর এক। মা দুর্গাকে যে মন্ত্র উচ্চরন করেই ডাকো না কেন আসলে পুজো হয় নারী শক্তির। তাই এখানে দুর্গার পুজো হয়, আদিবাসী মন্ত্র ‘মারাং বুরু যাহা ইয়ুব মায়েন’ মন্ত্রে। শুনেছেন কখন এই মন্ত্রে দুর্গা পুজো হয়? এই পুজোয় বাঁকুড়ার হীরাবাঁধের হাঁসদা বাড়ির পুজোতে এলেই শুনতে পাবেন।

আদিবাসীদের চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়ে স্বপ্নাদেশে দেবী দুর্গার আরাধণা শুরু করেন সরস্বতী হাঁসদা। আসছেন বাঁকুড়ার হীড়বাঁধের প্রত্যন্ত দোমোহানী গ্রামের বাসিন্দা সরস্বতী হাঁসদা আদিবাসী ভাষায় নিজেই পুজো করে আসছেন শুরু থেকেই । সারা বছর নিত্য পুজো হলেও সপ্তমী থেকে দশমী নিয়ম মেনেই এখানে পুজো হয়। ফলে খড়ের চালার দুর্গা মন্ডপে সারাবছর প্রতিমা রেখে পুজা চলে। আর দুর্গা পুজার আগে পুরানো প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা তৈরী হয়। যদিও এখন এই পুজো ঘিরে এলাকার মানুষদের মধ্যে তৈরি হয় উন্মাদনা। গ্রামের অন্যান্য আদিবাসীরাও বর্তমানে সামিল হয় হাঁসদা বাড়ির দুর্গাপুজোয়। এমনকি পুজোও দেয় তাঁরা। যদিও দেবীর স্বপ্নাদেশে ১৫ বছর আগে পুজোর শুরুতে অনেক বাঁধার সন্মুখীন হতে হয় এই আদিবাসী পরিবারকে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে সে বাঁধা কেটেও যায়।