৪০০০ বছরের পুরনো মমির পরিচয় উদ্ধার

0
271

আবিষ্কার হওয়ার ১০০ বছর পরে পরিচয় উদঘাটন। কৃতিত্বের দাবিদার এফবিআইয়ের গবেষক দল। দীর্ঘ গবেষণার পর বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া একটি মমির মাথা থেকে লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। ‘জার্নাল জিনস’-এ প্রকাশিত একটি এমনটাই দাবি করেছেন গবেষক দল। ঘটনাটি ১৯১৫ সালের। প্রাচীন ইজিপ্টের সমাধিক্ষেত্র ‘দায়ের-এল-বার্সা’ থেকে প্রায় ৪০০০ বছরের পুরনো মমির বিচ্ছিন্ন মাথা আবিষ্কার হয়। যদিও মমির সঙ্গে রাখা সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র আগেই চুরি হয়ে গিয়েছিল। বিধ্বস্ত সমাধি থেকে শুধু বিচ্ছিন্ন মাথাটাই উদ্ধার করেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। সমাধির লিপির পাঠোদ্ধার করে সামান্য কিছু তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে। যেমন সমাধিটি ছিল ‘যেহুত্যনাখত’ নামের কোন এক গভর্নর ও তার স্ত্রীর। বিপত্তির শুরু এখান থেকেই। বিচ্ছিন্ন মাথাটি কার? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুরুষ না নারী, শুরু হয় বিস্তর গবেষণা। ১৯২০ সাল থেকেই পরিচয়বিহীন অবস্থাতেই বোস্টন মিউজিয়াম অফ ফাইন আর্টসে সংরক্ষিত ছিল এটি।
এফবিআইয়ের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ওডিল লরিয়েল জানান, যেকোনও মমির ডিএনএ টেস্ট করা দূরহ কাজ। কেননা, এমনিতেই মরুভূমির প্রচন্ড গরমে ডিএনএ-র প্রকৃতি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা এর আগেও কয়েকটি মমির লিঙ্গ নির্ধারণের ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। এর ফলে মাথাটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত বহু গবেষণার পর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য ৪০০০ বছর পুরনো দাঁতের ডিএনএ প্রতিলিপি গঠনে সমর্থ হয় গবেষকরা। তারপরেই সাফল্য মেলে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতবছরেও জার্মানির একদল বিজ্ঞানী এই কাজে নেমেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরাও ব্যার্থ হয়। জার্নালের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, মাথাটির সিটি স্ক্যান করার জন্য ২০০৫ সালে ম্যাসাচুটেস জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট থেকে চোয়াল, খুলি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র পাওয়া গেলেও, সেটা দিয়ে লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ফের ২০০৯ সালে মমির মুখ থেকে একটি দাঁত তোলা সম্ভব হয়। কিন্তু শক্ত এনামেলের কারণে সেখান থেকও প্রথমে ডিএনএ উদ্ধার করা যায়নি। বহু চেষ্টার পর সেটা সম্ভবপর হয়। এরপরেই লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব হয়। সেই ডিএনএর প্রতিলিপি তৈরি করার পর জানা যায়, বিচ্ছন্ন মাথাটি গভর্নর ‘যেহুত্যনাখত’-এর নিজেরই। আপাতদৃষ্টিতে হয়ত ‘যেহুত্যনাখত’-এর পরিচয়ের হয়তো তেমন কোনও গুরুত্ব নেই। কিন্তু এই সাফল্যই ভবিষত্যে প্রাচীন মিশরীয় মমি রহস্যে উন্মোচিত করবে। এমনটাই মনে করেন এফবিআইয়ের ‘ডিএনএ সাপোর্ট ইউনিটে’র প্রধান অ্যান্থনি অনোরাটো।