সুইজারল্যান্ডের লুসানের ক্যাথিড্রালের চূড়া থেকে চেঁচিয়ে ঘণ্টার জানান দেন রেনাতো হসলার। তারপর বাজান বহু শতাব্দী প্রাচীন ঘণ্টা। লুসানে যে কোনও বিপর্যয়ের সময় বাজানো হয় যে ঘণ্টাটি।
১৫১৮ সালে তৈরি লা ক্লিমেন্স ঘণ্টা এখন বাজানো হচ্ছে করোনাভাইরাস থেকে লুসানের সবার মুক্তির প্রার্থনা জানিয়ে। ৩.৪ টন স্টিলের ভারী এই ঘণ্টার আওয়াজ শহর ছাপিয়ে পৌঁছে যায় লেক জেনেভায়। তার চড়া সুর আরও চারটি ঘণ্টার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজতে থাকে।
ফেল্টের টুপি পরা হাসলার লণ্ঠন হাতে তিনবার পেটান ঘণ্টা, তারপর থামেন খানিকক্ষণ, তারপর আরও ৬ বার। এভাবেই বাজতে থাকে সেই ঘণ্টা। রাত দশটা থেকে দুটো পর্যন্ত প্রতিদিন নিয়ম করে বাজে লা ক্লিমেন্স। ক্যাথিড্রালের মেঝে থেকে পাথরের ১৫৩টি সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয় হাসলারদের।
ইউরোপের মধ্যে একমাত্র সুইজারল্যান্ডের লুসানেই রয়েছে নৈশপ্রহরী। আটবছর ধরে এই কাজ করছেন হাসলার। ১৪০৫ সালে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সময়ই নৈশপ্রহরীরা বাজিয়েছিলেন এই ঘণ্টা। সবাইকে একজোট হয়ে আগুন নেভাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে। লেক জেনেভার তীরে লুসানে সঙ্কটের সময়েই পুরো তিন মিনিট ধরে বাজে এই ঘণ্টা।
এখন রাত আটটা বাজলেই রাস্তা শুনশান। আঁধার নেমে আসে। অন্যসময় জমজমাট থাকা এই শহর এখন অন্যরকম। ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাসে মারা গিয়েছেন ২৩০ জন, আক্রান্ত ১৩ হাজার। লুসানের আশপাশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার, দেশের সব জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।