প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন শুক্রবার উঠে যায় রাজ্য সরকারের সদর্থক পদক্ষেপের জন্য। কিন্তু নদীয়া জেলায় পঞ্চায়েত দফতরের অধীনে ১৩২ জন চাকরিপ্রার্থী পাঁচদিন ধরে ধরনা দিচ্ছেন। অথচ কোনও হেলদোল নেই তৃণমূল পরিচালিত জেলা পরিষদের। তৃণমূল নেত্রীর ছবিসহ ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ লেখা ব্যানার লাগিয়েই ‘নদীয়া জেলা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী চাকরী প্রার্থীবৃন্দ’ নামে একটি মঞ্চ তৈরি করে ধরনায় বসেছেন তাঁরা। নদীয়া জেলা পরিষদের সামনে ওই চাকরিপ্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন প্ল্যাকার্ড নিয়ে শান্তিপূর্ণ ধরনা দিচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন এবং তাঁদের ইন্টারভিউ পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে আজও নিয়োগপত্র হাতে পাননি ওই ১৩২ জন চাকরিপ্রার্থী। প্রায় এক বছরের ওপর ধরে তাঁরা নদীয়া জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে ঘুরেও নিয়োগপত্র পাননি বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের। এছাড়া এই ধরনা মঞ্চে ৭ জন আছেন যাদের পরিবারের কোনও সদস্য বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে খুন হয়েছিলেন। তৃণমূল কর্মী হিসেবে তাঁদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু আজও তাঁদের চাকরি হয়নি, ফলে তাঁরাও বসেছেন ধরনায়। তাঁদের দাবি, তাঁরা প্রত্যেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক তবুও নিয়োগপত্র হাতে পাচ্ছেন না। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুক্রবার তাঁরা নদীয়া জেলা সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডুর কাছে ডেপুটেশন দিতে গেলেও তিনি অপমান করে বার করে দেন। ফলে শনিবারের মধ্যে যদি কোনও প্রতিশ্রুতি না মেনে তবে রবিবার থেকেই দাবি আদায়ে অনশন শুরু করার কথা জানিয়ে দিয়েছেন।