Amphan effected CN

অযথা বিক্ষোভ না করে বিদ্যুৎ কর্মীদের কাজ করতে দিন। আমফান বিধ্বস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগণা পরিদর্শন করতে কাকদ্বীপ যাওয়ার আগে এই আবেদন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোধ্যায়। শনিবার দুপুরে তিনি কাকদ্বীপের উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়ার জন্য বেহালা ফ্ল্যাইং ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে তারাতলার কাছে সিইএসসি দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। বিক্ষোভ দেখেই গাড়ি থেকে নেমে যান মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটু ধৈর্য ধরুন, বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিক মিলবে। এ বিষয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে বলে তিনি জানান। পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রয়োজনে আরও লোক লাগিয়ে বেহাল বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে। একটু ধৈর্য ধরুন, বিদ্যুৎ পরিষেবা মিলবে’। কিন্তু তাঁর আহ্বানে যে কোনও কাজই হয়নি তাঁর প্রমান মিলল একটু পড়েই।

বিদ্যুৎ নিয়ে ঠাকুরপুকুর, সোনারপুর সহ একাধিক এলাকা থেকে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধের খবর আসতে থাকে। ফলে কাকদ্বীপ যাওয়ার পথ থেকেই তিনি ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে দিয়েছেন। পরিস্থিতি ঠিক করার নির্দেশ দিয়ে। এরপরই তিনি হেলিকপ্টারে কাকদ্বীপের উদ্দেশ্যে উড়ে যান। কাকদ্বীপ যাওয়ার আকাশপথে তিনি সাগর ও কাকদ্বীপের বিস্তৃর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক থেকে শুরু করে জেলার সমস্ত প্রশাসনিক আধিকারিক ও জেলা পরিষদের সদস্যরা। বৈঠকের প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের কর্তাদের সতর্ক করেন অতিরিক্ত খরচ না করার জন্য। জেলাশাসক জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় প্রায় ১০ লক্ষ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলার আবাস যোজনায় ঘর তৈরি করবে রাজ্য সরকার। বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছ সরানোর জন্য স্থানীয় ছেলেদেরও নিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে দ্রুততার সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। করোনা আবহেই এসেছে আমফান। তাই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ঢিলেমি দিলে চলবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরামর্শ দিয়েছেন, ওআরএস এবং অ্যান্টি ভেনাম বেশি করে মজুদ রাখতে হবে। রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ ১০০দিনের কাজে লোক নিয়োগ করে কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন কাকদ্বীপের প্রশাসনিক সভা থেকে বলেন, ‘একসঙ্গে চারটে সমস্যার সঙ্গে লড়ছিকরোনা, লকডাউন, পরিযায়ী শ্রমিক, আমফান। সরকারের আয় নেই,  অথচ এক লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে গেল’। জরুরী পরিষেবার পাশাপাশি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও নদীবাঁধ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায় যেন কেউ পানীয় জল ও রেশন থেকে বঞ্চিত না হয় বলে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, কেউ পানীয় জল পাচ্ছেন না, এই কথাটা যেন না শুনি।