নিজে প্রচণ্ড ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও আরও ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে ঢাল হয়ে বাঁচাল বাংলাদেশের সুন্দরবন। ঘূর্ণিঝড় আমপানের গতি অন্তত ৭০ কিলোমিটার কমিয়ে দিয়েছে সুন্দরবন। এর জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতাও ৩ থেকে ৪ ফুট কমিয়েছে। ঝড়টি ঘণ্টায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়ে। আমপান বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় আঘাত করে ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে। ফলে এই ঝড়ে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার চেয়ে আরও অনেক বেশি ক্ষতির হাত থেকে উপকূলের মানুষ ও সম্পদ রক্ষা পেয়েছে।

প্রথম আলো জানাচ্ছে, সুন্দরবন না থাকলে কলকাতা শহরে আমপান যে তাণ্ডব চালিয়েছে, একই পরিণতি হত ঢাকাসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির। ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭২ কিলোমিটার, আর কলকাতায় ছিল ১১২ কিলোমিটার। তাই সুন্দরবন না থাকলে ঢাকাতেই ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতি নিয়ে ঝড়টি চলে আসত।

তবে ওই ঝড়ের কারণে বাংলাদেশের সুন্দরবনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা ও খুলনা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের হিসেবে, আমপান বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলের ১০০ কিলোমিটারের কাছে আসার সময় এর বাতাসের গতি ঘণ্টায় ছিল ২২০ কিলোমিটার। কিন্তু সুন্দরবন পেরিয়ে বসত এলাকায় আঘাতের সময় এর গতি কমে আসে ১৫১ কিলোমিটারে। অন্যদিকে, জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা থাকার কথা ছিল ১৫ থেকে ১৮ ফুট। কিন্তু তা উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ১০ থেকে ১২ ফুটে নেমে আসে।

তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগে ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালের ঘূর্ণিঝড়, ২০০৭ সালে সিডর, ২০০৯ সালে আয়লা, ২০১৬ সালে রোয়ানু, ২০১৮ সালে বুলবুল ও ২০১৯ সালের ফণী এবং এ বছর আমপানের গতি থমকে দিয়েছে সুন্দরবন।