লকডাউনের প্রভাব মৌমাছি ব্যবসাতেও পড়েছে ব্যাপকহারে। কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে মৌ ব্যবসায়ীরা। এমনকি খাবারের অভাবে অনাহারে কয়েক লক্ষ মৌমাছি মারা গিয়েছে। সেই ছবিই ধরা পড়লো বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া, হাসনাবাদ ও বাদুড়িয়া সহ একাধিক ব্লকে।
বসিরহাট মহকুমার প্রায় ৩ হাজার মানুষ এই মৌ পালন ও ব‍্যবসার সাথে জড়িত। তাদের পরিবারের সদস‍্য ধরলে ১০০০০ জন মানুষ প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে মধু ব্যবসায় জড়িত। হাড়োয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সদরপুর গ্রামের মৌমাছি ব্যবসায়ী বিমলচন্দ্র দাস জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন সহ বহু জেলায় মৌমাছিদের নিয়ে যাওয়া হয় ফুল থেকে মধু আহরণ করানোর জন‍্য। কিন্তু করোনা আতঙ্কের জেরে ভিন জেলায় ঢুকতে বাধা পাচ্ছেন মৌ পালকরা। বেশিরভাগ জায়গায় পুলিশি অনুমতি মিলছে না। অতি কষ্টে পুলিশের অনুমতি পেলেও অন‍্য জেলার স্থানীয় বাসিন্দারা এই মৌপালকদের ঢুকতে দিচ্ছে না।
এর জেরে মৌমাছিরা ফুলের রেণু থেকে তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছে না। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই চিনি গোলা জল মৌমাছিদের খাদ্য হিসাবে দেওয়া হচ্ছিল। প্রত‍্যেক ১০০ বাক্স মৌ এর জন‍্য প্রত‍্যেকদিন এক কুইন্টাল করে চিনি জলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু লকডাউনের জেরে বেসরকারি মধু প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলি মধু সংগ্রহ করতে আসছে না।পাশাপাশি দিল্লির কেজরিওয়াল সরকারের খাদ‍্য এদের থেকে মধু আমদানি করতো, এমনকি বসিরহাটের এই মধু বিদেশেও সরবরাহ করা হত।
প্রত‍্যেক একশো বাক্স মৌমাছি মারা গেলে ক্ষতির পরিমাণ দাড়ায় ২.৫০ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে এই ব‍্যবসায় নামেন মৌলীরা। মৌপালকরা জানাচ্ছেন, তাঁরা পরিবারের খরচই ভালোভাবে চালাতে পারছেন না আর মৌমাছি পালনের খরচের টাকা কিভাবে জোগাবেন? রীতিমতো দিশেহারা হয়ে সরকারের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তারা।
হাড়োয়ার বিডিও দীপঙ্কর দাস খুব দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে হাসনাবাদ, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর সহ একাধিক ব্লকে মৌপালকরা সোশাল ডিস্টেন্স রক্ষা করে রাস্তায় প্রতীকী আন্দোলনে নেমেছেন।