বাম গড় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হানা দিতে পারবে এবিভিপি? বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বামেদের গড় বলে পরিচিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার কেন্দ্রীয় প্যানেলে প্রার্থী দিয়েছে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। পাশাপাশি প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজ্ঞান, কলা ও ইঞ্জিনিয়ারিং এই তিন বিভাগেই ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘ টালবাহানার পরে তিন বছর পরে নির্বাচনের অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে বুধবার সকাল থেকেই ভোট ঘিরে টানটান উত্তেজনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। এবিভিপি এবারই প্রথম কেন্দ্রীয় প্যানেলে প্রার্থী দিয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগ বাদে বাকি দুই বিভাগেই তাঁরা লড়াই করছে। নির্বাচন ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস জানিয়েছেন, যাদবপুরের ঐতিহ্য যেন ক্ষুন্ন না হয়।


দিল্লির জেএনইউ, জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যাদবপুরও ছাত্র রাজনীতির পীঠস্থান। ফলে গোটা দেশের নজর থাকছে যাদবপুরের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিকে। সাধারণত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বাম ও অতিবামপন্থীদের গড় বলেই পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এখানে এবিভিরি-র প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই-এর অন্তর্দন্দ্বের সুযোগ নিয়ে এবিভিপি-র কার্যকলাপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, তাঁদের একটি সেমিনারে বক্তৃতা দিতে এসে ঘেরাও হয়েছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। ওই ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। দিনভর ঘেরাও চলার পর রাতের দিকে রাজ্যপাল সয়ং সেখানে যান এবং বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করেন। অপরদিকে একের পর এক যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে এসএফআই কলা বিভাগে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে এবছর ভোটের আগে। বেশ কয়েকজন নেতাকে এরজন্য পদ ছাড়তে হয়েছে। আবার যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা জানাজানি হতেই সংগঠন থেকে বেড়িয়ে আসে অনেক সদস্যই। সেখানেই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। ফলে এখন দেখার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটা দাত ফোটাতে পারে এবিভিপি।