এপ্রিলের শেষেই পুরভোট করতে চায় রাজ্য। এর আগে রাজ্যের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে এপ্রিলের মাঝামাঝি ভোট করানোর। কিন্তু করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে দিনক্ষণ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে পিছিয়ে যায় ভোট। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, এপ্রিলের শেষেই এই দুই শহরে ভোট করিয়ে নিতে। সূত্রের খবর, সাংবিধানিক সঙ্কট এড়াতেই ভোট করানো জরুরি বলে মনে করছে রাজ্য। উল্লেখ্য, এপ্রিলের শেষেই কলকাতা পুরসভায় মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর আইন অনুযায়ী কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বসানোর কোনও নিয়ম নেই। ফলে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের (৭ মে) মধ্যে ভোট না হলে তৈরি হবে সংবিধানিক সঙ্কট। অপরদিকে, রাজ্যের যে ১৭টি পুরসভায় আগে থেকেই প্রশাসক বসানো হয়েছিল, তাঁদের মেয়াদ আরও একবছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। আর বাকি যে ৮৮টি পুরসভার মেয়াদ এপ্রিলে শেষ হতে যাচ্ছে, সেখানে কী করা হবে এই নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্যের বকেয়া সব পুরসভাতেই প্রশাসক বসানোর কথা শোনা যেতেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে এখনই প্রশাসক বসানো নিয়ে তাড়াহুড়ো করার পথে এগোলো না রাজ্য সরকার।
মঙ্গলবারই ছিল রাজ্য বিধানসভার শেষদিন। কারণ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আজ থেকেই বিধানসভা স্থগিত করে দেওয়া হল আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত। তাই এদিন বিধানসভায় বঙ্গবন্ধু মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ পালণ করা হল। সরকার ও বিরোধী পক্ষের বিধায়করা এদিন মুজিবর রহমানের ছবিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন, যে সমস্ত বিধায়কের বয়স ষাটের বেশি তাঁরা যেন অ্যান্টি নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নেন। জলপাইগুড়ির কংগ্রেস বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা এদিন মুজিবর রহমানের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে অসুস্থ বোধ করেন। তাঁকে কাশতে দেখেই স্পিকার ও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী স্পিকারকে ষাটোর্ধ্ব বিধায়কদের নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক নেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন।