করোনা ভাইরাসের জেরে জমায়েত নিষিদ্ধ। তাই পুরভোটের আগে কোনও দলই প্রচারে নামতে পারবে না। সারা দেশেই করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে এই মারণ ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়নি। তবুও কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন। এই আবহেই পুরভোট পিছিয়ে দিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যদিও পুরভোটের দিনক্ষণ ঠিক ছিল না। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর দিনক্ষণ নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ভোট পিছনোর আর্জি জানায় রাজনৈতিক দলগুলি। বৈঠক শেষে কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ দিন পর আবার বৈঠকে বসে পরিস্থিতি আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল এপ্রিলের দ্বিতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে রাজ্যের ১১১টি পুরসভায় ভোট করাতে পারে কমিশন। রাজ্যের তরফে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পরই ভোটের তোড়জোড় শুরু করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু করোনার প্রকোপে ভাঁটা পড়ল যাবতীয় উদ্যোগে। আপাতত দিন পনোরোর জন্য পুরভোট নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হবে না বলেই জানিয়ে দিল কমিশন।
সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা হয়েছে। আইন আদালতেও কাজকর্ম নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে ভোট করানো কার্যত অসম্ভব। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট নিয়ে তাঁরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবুও সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে উঠল করোনা প্রসঙ্গ। এদিন দুপুর তিনটে থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে শুরু হয় সর্বদল বৈঠক। দীর্ঘ বৈঠকে সমস্ত রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতামত জানিয়ে দেয়। তবে জানা গিয়েছে, প্রত্যকেই নির্বাচন স্থগিত রাখার পক্ষে সওয়াল করেছেন এদিন। সকলেরই দাবি ছিল, এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাইছেন না। জানা যাচ্ছে, রমজান মাস শেষ হলেই ফের ভোটের তোড়জোড় শুরু হবে। সেক্ষেত্রে জুন মাসের আগে পুরভোট পিছিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।