বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ। সপ্তাহের শুরুতে আউটডোরের সামনে ভিড় ছিল অন্যান্য দিনের মতোই। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী ও রোগীর আত্মীয় এই হাসপাতালেই আসেন রেফার হয়ে। কিন্তু সোমবার সকাল থেকেই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজের আউটডোরের সামনের একটি নর্দমা থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এক জায়গায় মাছিও ভনভন করতে দেখেন রোগীর আত্মীয়রা। হাসপাতালের কর্মী থেকে চিকিৎসকরা মুখে কাপড় চাপা দিয়েই ঢুকছেন বেরোচ্ছেন। কিন্তু কেন এত দুর্গন্ধ সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেননি কেউ। আসল কারণ কী? হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীর আত্মীয়দের কথায়, ওই নর্দমায় সকাল থেকেই দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে, খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। এবং সেটা প্রকাশ্যেই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি প্রত্যক্ষদর্শী রোগীর আত্মীয়দের। অবশ্য বেলার দিকে অনেক পরে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে দায় সারে পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠছে, বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো ব্যস্ততম হাসপাতালের আউটডোরের সামনেই প্রকাশ্যে নর্দমায় কীভাবে এল মৃতদেহ? কেনই বা ঘন্টার পর ঘন্টা একইভাবে দেহটি পড়ে থাকল? তবে কী চিকিৎসার জন্য আসা কোনও রোগীর মৃত্যু হয়েছে? হাসপাতালে সময় মতো ভর্তি হতে না পেরেই কী মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছেন ওই ব্যক্তি? এরকম হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও মুখে কুলুপ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মৃত ব্যক্তির বাঁ পায়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। যেভাবে দেহের পচন ধরেছে তাতে পরিষ্কার, অন্তত দু-তিনদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। ফলে হাসপাতালের আউটডোরের সামনেই নর্দমায় একটি মৃতদেহ ২-৩ দিন ধরে পড়ে রইল, দুর্গন্ধ ও দূষণও ছড়াল, অথচ নজরে পড়ল না কোনও কর্মী বা আধিকারিকদের। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। পাশাপাশি এই অমানবিক ঘটনার নিন্দাও করছেন হাসপাতালে চিকিৎসা বা অন্য প্রয়োজনে আসা মানুষজন। পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলা পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠছে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ।