গিলোটিন বিক্রি নিয়ে শোরগোল

0
45

বহু প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিক্রি হয়ে গেল গিলোটিন। গিলোটিনের বয়স দেড়শো। তার ব্লেড একটু আধটু তোবড়ানো। লম্বায় ১০ ফুট। ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত অপরাধীদের মুন্ডু ঘ্যাচাং ফু করেছে। বুধবার প্যারিসে বিক্রি হয়ে গেল সেটি। কিনলেন এক ফরাসি ধনী, ৮০০৮ ইউরোয়। নিলাম সংস্থা দ্রোনো জানাচ্ছে, এটি আসল গিলোটিন নয়। গিলোটিনের নকল। কোনওদিন এতে কারও মাথা কাটা যায়নি। তবে একবার প্যারিসে একটি মিউজিয়াম অফ টর্চার বা অত্যাচারের জাদুঘরে রাখা হয়েছিল বটে সেটিকে।

১৯৮১ সালে মৃত্যুদণ্ড রদ হয়ে গিয়েছে ফ্রান্সে। তাই যে কোনও গিলোটিনই সেদেশে বিতর্কের খোরাক। নিলামের নজরদাররা এটির নিলাম বন্ধ করতে বলেছিল। তাদের এক প্রতিনিধি বলেছেন, গিলোটিন বিক্রি করা উচিত হয়নি। নাৎসি ক্যাম্পে পাঠানো মানুষজনের কাপড়চোপড়ের মতোই এটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাতে কোনও কিছুই আটকায়নি।

২০১১ সালে আরেকটা গিলোটিন বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ইউরোয়। শোনা যায়, লেডি গাগাও নাকি দর হেঁকেছিলেন। নিলামের নজরদারদের নিলাম আটকানোরও কোনও ক্ষমতা নেই। এই গিলোটিন ছিল প্যারিসের জ্যাজ ক্লাবে। এখন তার অভাবী বিক্রি হল।
মধ্য ১৯ শতকের এই গিলোটিনের রেপ্লিকা বুধবার কিনেছেন ফরাসি শিল্পপতি ক্রিস্টোফার ফেভিয়ার। তবে যত গিলোটিন বাজারে এসেছে, সবই যে বিক্রি হয়েছে তা নয়। চার বছর আগে ন্যান্তেসে আরও একটা গিলোটিনের দাম ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ইউরো। সেটি বিক্রি হয়নি।২০১২ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসি ঘাতকদের শেষ ৮১২টি জিনিসপত্রের বিক্রি আটকাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রককে। ফার্নান্দ মেসোনিয়ে সেখানে ২০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। আলজেরিয়া তখন ফ্রান্সের অংশ। যাদের মাথা কাটা গিয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই ছিলেন আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী।

গিলোটিনকে অনেকসময় বলা হয়েছে “জাতীয় ক্ষুর” কিংবা “দেশপ্রেমী ব্লেড”। ফাঁসির বদলে ব্যবহার করা হত এটি। কারণ মনে করা হত এটা অনেক বেশি মানবিক। তবে এর কুখ্যাতি সেই ফরাসি বিপ্লবের সময়। ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৪ সালের মধ্যে কম করেও ১৬ হাজার মানুষের গর্দান গিয়েছে গিলোটিনে। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে মার্সাই জেলে গিলোটিনে শেষ মুণ্ডচ্ছেদ করা হয় এক টিউনিশিয়ান হামিদা জানদুবির। এক তরুণীকে হত্যা তার দোষ প্রমাণিত হয়েছিল।