করোনার জেরে মিটিং মিছিল, জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে আগেই। বাতিল বা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে অনেক অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি। এবার কী আসন্ন পুরভোটও পিছোবে? রাজ্য রাজনীতিতে এটাই এখন একমাত্র প্রশ্ন। এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহল ও আম জনতার মধ্যেও। এমনিতেই মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও দিল্লি বোর্ডের পরীক্ষার জন্য কোনও সভা-সমাবেশ শুরুই করতে পারেনি কোনও রাজনৈতিক দলই। এর ওপর সভা বা জমায়েত নিষিদ্ধ হয়েছে করোনার প্রকোপে। ফলে পুরভোটের প্রচার নিয়ে চিন্তায় সব দলই। এই আবহেই সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশন পুরভোট নিয়ে সর্বদল বৈঠক ডেকেছে। সূত্রের খবর, এই প্রশ্ন উঠবে ওই বৈঠকেও। রাজ্য বিজেপি ভোট পিছোনোর দাবি তুলতে চলেছে সর্বদল বৈঠকে। বিজেপি শীর্ষনেতাদের মত, প্রচার ছাড়া ভোট কীভাবে সম্ভব? পুরভোটের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে প্রথমে কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের ভোট করানো হবে। পরের ধাপে রাজ্যের বাকি পুরসভা ও কর্পোরেশনের ভোট হবে। সেটা এক অথবা দু দফায় করতে পারে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

তবে রাজ্য সরকার চাইছে কলকাতা ও হাওড়ায় ভোট হোক এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে। এখানেই আপত্তি রাজ্য বিজেপির। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হলে প্রচারের জন্য ১৫ দিনও পাওয়া যাবে না। ফলে সুবিধা হবে শাসকদলের। এই বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায় আগেই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চললেও রাজ্যের সমস্ত স্কুল কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বাকি পরীক্ষাগুলি হলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই হতে পারে। সেক্ষেত্রে মাইক বাজিয়ে প্রচার করতে বাধা আসবে। এর ওপর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জমায়েত বা সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই পুরভোট সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। বাম ও কংগ্রেসের তরফ থেকেও একই আপত্তি তোলা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সর্বদল বৈঠকেই বোঝা যাবে পুরভোটের ভবিষ্যৎ কোন দিকে। যদিও পুরভোট করানোর ব্যাপারে রাজ্য সরকারে মতামতকে গুরত্ব দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কমিশন কী পারবে রাজ্যের মতামত উপেক্ষা করে ভোট পিছোনোর সিদ্ধান্ত নিতে। শাসকদল তৃণমূলও কী অবস্থান নেয় করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে ভোট করানোর ব্যাপারে। সোমবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ডাকা সর্বদল বৈঠকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দুজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারবেন।