তাঁর দলের নেতাদের কাটমানি নেওয়ার কথা কার্যত স্বীকার করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার বাঁকুড়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। সেখানেই উঠে এল বাঁকুড়ার সারেঙ্গাতে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ার প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ি করলেন দলের নেতাদেরই, নেতা-নেত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁর তোপ, ‘কনট্রাক্টরদের কাজ দিয়ে ভাগ চাওয়া বন্ধ করো’। উল্লেখ্য, গত ২২ জানুয়ারি সারেঙ্গাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল একটি আস্ত জলের ট্যাঙ্ক। তাতে কেউ হতাহত না হলেও চাষের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। বুধবার সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘কোন কনট্রাক্টর কাজটা করেছে শুনি?’ উত্তর পেয়ে তিনি নির্দেশ দেন, ট্যাঙ্কটি নতুন করে তৈরি করে দিতে হবে। প্রয়োজনে ওই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, তিনি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আধিকারিকদেও এক হাত নিয়েছেন এদিন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুযোগ, পিএইচপি অফিসারদের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। কনট্রাক্টর ভেরিফিকেশন না করেই কাজ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা সহ্য করা যায় না। এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘ল্যান্ড ও পিএইচই দফতরে ঘুঘুর বাসা আছে, এটা ভাঙতে হবে’।


এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতের প্রধানদেরও মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেতে হয়েছে। বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার নামে অনেক অভিযোগ জমা পড়ছে। পাবলিক যদি ভুল বুঝে থাকে, তাহলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষমা চেয়ে আসবেন। সোনামূখী পুরসভার চেয়ারম্যানকেও ধমক দিয়ে বলেন, সরকারি বাড়ি ঠিকঠাক বন্টন হচ্ছে না। যে সমস্ত মানুষ ফরেস্টে বসবাস করছেন, তাঁদের জমির পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি তিনি সোনামুখীতে রোজ রোজ গোষ্ঠীকোন্দল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যানকে ধমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন হকারদের পুনর্বাসন দিতে দেরি হচ্ছে? কেন জঞ্জাল পরিষ্কারের যাবতীয় পরিকাঠামো দেওয়া সত্বেও ঠিকঠাক কাজ হচ্ছে না? বিষ্ণুপুরে কেন ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেনি পুরসভা সেই প্রশ্নও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বাঁকুড়ার জেলাশাসককে তিনি নির্দেশ দেন, নদিয়া জেলার মতো এই জেলাতেও টপিক্যাল অর্কিড ও ভালো মানের গোবিন্দ ভোগ চাল চাষের ব্যবস্থা করতে। এগুলো বিদেশে ভালোই চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।