দেশজুড়ে বিদ্বেষের রাজনীতি করছে বিজেপি। রাজনীতি হোক উন্নয়নের ও শান্তির, সবটাই হোক দেশের ভালের জন্য। মঙ্গলবার প্রথম কর্মিসভা করতে এসে বাঁকুড়ার সতীঘাটে এই ভাষাতেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর একটা নাগাদ বাঁকুড়ায় এসে পৌঁছান তিনি। এদিনই দিল্লি বিধানসভার ভোটগণনা চলছে। সকাল থেকেই সেদিকে নজর রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটের ফল বেরোতেই দেখা যায় আম আদমি পার্টির হাতে ধরাশায়ী হচ্ছে বিজেপি। ফলে নিজের ভাষণে বারেবারে তুলে আনলেন আম আদমি পার্টির বিপুল জয়ের প্রসঙ্গ।

এদিন তিনি বলেন, ‘যেখানেই ভোট হচ্ছে সেখানেই হারছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডের পর এবার দিল্লি’। তিনি আরও বলেন, ‘দিল্লি বিধানসভার ফল প্রমাণ করছে মানুষ এনআরসি-সিএএ প্রত্যাহার করেছে। বিভাজনের রাজনীতি মানুষ চায় না, মানুষ চায় উন্নয়ন। আশা করব এবার কেন্দ্রীয় সরকার সিএএ ও এনআরসি প্রত্যাহার করে নেবে’। এদিন সকালেই তিনি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে কেজরিওয়ালকেও বিরক্ত করেছিল বিজেপি সরকার। এভাবেই তাঁরা দিল্লি দখল করতে চেয়েছিল, কিন্তু মানুষ তা করতে দেয়নি। এটা উন্নয়নের জয়। তাই আপ-এর জয় আর বিজেপির পরাজয়ে আমি খুব খুশি’। এরপরই মমতার তোপ, ‘ ২০২১ সালে বিজেপির শেষ কলসি ডুববে এই বাংলায় এসে’।

উল্লেখ্য, এই প্রথমবার বাঁকুড়ায় কর্মীসভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে জেলা তৃণমূলের তরফ থেকে প্রায় ৫০ হাজার কর্মীকে হাজির করেছিল এই সভাতে। তাঁদের জন্য দুপুরের খাবারের বিশাল আয়োজনও ছিল এদিন। যদিও বিগত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার দুটি আসনই বিজেপির কাছে পরাজিত হয়েছেন শাসকদলের প্রার্থীরা। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘সিপিএম লোকসভায় বিজেপিকে সাহায্য করেছে এই জেলাতে। তাই ওরা দুটি আসন জিতে গিয়েছে। ২০১০ সালে এই জেলায় সিপিএমের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই জনসভা করেছিলাম। তখন বাঁকুড়ায় মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল। কিন্তু এখন আর এই নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তবে তিনি এও জানিয়ে রাখলেন, টিএমসি দুর্বল হলেই এখানে ফের মাওবাদীদের রমরমা বাড়বে।