আগামী ১৪ এপ্রিল ২১ দিনের লকডাউন শেষ হচ্ছে। এরমধ্যেই দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার উর্ধ্বমুখী। দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১০৯ জন। ফলে প্রশ্ন উঠছে লকডাউনের সময়সীমা কি বাড়াবে কেন্দ্র? যদিও কেন্দ্রের তরফে এই বিষয়ে মুখ খোলেনি। তবে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, লকডাউনের সময়সীমা আর নাও বাড়ানো হতে পারে। বরং করোনা সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি যে জেলাগুলিতে সেখানেই সীমাবদ্ধ রাখা হবে লকডাউন। সূত্রের খবর, দেশের ৭৩৬টি জেলার মধ্যে করোনা পজিটিভ কেসের সন্ধান মিলেছে ২৭৪ জেলায়। এরমধ্যে মাত্র ৬২টি জেলায় সংক্রমণ অতিমাত্রায় ছড়িয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৮০ শতাংশের বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তাই লকডাউনের পরবর্তী সময়ে ওই ৬২ জেলাতেই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। ওই জেলাগুলির সীমানা সিল করে দিয়ে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা চালু রাখা হবে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে গোটা দেশে একসাথে লকডাউন না উঠিয়ে ধাপে ধাপেও তোলা হতে পারে বলে চিন্তাভাবনা চলছে বলে সরকারের শীর্ষ সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে। গত ৪৮ ঘন্টায় দেশে করোনা পজিটিভের নতুন কেস বেড়েছে প্রায় হাজার। এক সপ্তাহ আগেও দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১২৫১, মৃতের সংখ্যা ছিল ৩২। আর মাত্র ৭ দিনেই এই সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৪০০০ এবং মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। লকডাউন তুলে নিলেও ট্রেন পরিষেবা চালু করা নিয়ে আলাদা করে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর দেখা যাচ্ছে দেশের কয়েকটি ভৌগোলিক সীমানাতেই আটকে রয়েছে সংক্রমণ। রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলায় করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে অতি আক্রমণাত্মক উপায় নেওয়া হয়েছিল। গোটা জেলা সিল করে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের লকডাউন মানতে বাধ্য করেছিল পুলিশ। ফলে ফল মেলে প্রশ্নাতীত। এবার দেশের অতি সংক্রমিত ওই ৬২ জেলাতেও এই ভিলওয়ারা মডেল গ্রহণ করা হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, রোগটি বায়ুবাহিত নয়, তাই আক্রান্তের পরিবারের সকলে বা হাসপাতালের সকলেই আক্রান্ত হচ্ছেন না। এই রোগ মানুষের দেহ থেকেই অন্য মানুষের দেহে ছড়াচ্ছে। তাই লকডাউনে কড়া মনোভাব নিলেই অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর জানিয়েছে, এবার থেকে বাড়ানো হচ্ছে করোনা পরীক্ষার হার। তাই ধীরে ধীরে লকডাউন উঠিয়ে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হতে পারে ১৪ এপ্রিলের পর।