রবিবার রাত ঠিক ৯টা। একে একে বাড়ির আলো নিভে গেল। সেই সঙ্গে বাড়ির ছাদে, জনলায়, ঘরের সামনে জ্বলে উঠল মোমবাতি ও প্রদীপ। না দীপাবলি নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় দেশের শক্তি ও সংহতি প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে গোটা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করল এক অভিনব দৃশ্য। অন্ধকারে ডুবে গিয়েও আলোক মালায় সেজে উঠল গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহ্বান জানিয়েছিলেন, নিজের ঘরের বারান্দা, ছাদে বা দরজার সামনে মোমবাতি, প্রদীপ ও মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালিয়ে দেশের একতা প্রমাণ করার। করোনার ভয় মানুষের মন থেকে মুছে ফেলে এই মারণ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোটা দেশ যে একজোট সেটা বোঝাতেই প্রধানমন্ত্রী এই দীপ জ্বালোর ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু কলকাতা সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় ফাটল দেদার শব্দবাজি, আতসবাজি, উড়ল ফানুস। কিছু লোক রাস্তায় নেমে মোমবাতি বা মশাল হাতে মিছিলও করলেন। লকডাউন ভেঙে রাস্তায় জমায়েত করা ও শব্দবাজি ফাটানোর জন্য কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৯৮ জনকে।


রাজ্যের বেশিরভাগ ঘরেই রাত ৯টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিভেছে আলো। উৎসাহের সঙ্গেই মানুষ জ্বালিয়েছেন মোমবাতি, প্রদীপ। রাত ৯টা বাজতেই রাজভবনে নিভে যায় সব আলো। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় প্রদীপ জ্বালিয়েছেন। রাজভবনের বড় বারান্দা জুড়ে মোমবাতির আলোয় সাজানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা, মুকুল রায়, জয়প্রকাশ মজুমদার সহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীরাও নিজেদের ঘরে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়েছেন। অপরদিকে, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ৯টা বাজার কয়েক মিনিট পরই গোটা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায় ৩২ গিগাওয়াট। এরপর ৯টা ১৫ মিনিটের পর থেকে ধীরে ধীরে ফের বাড়তে শুরু করে বিদ্যুতের চাহিদা।