করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা দেশ। চলছে একটানা ২১ দিনের লকডাউন। এই পরিস্থিতিতে দেশের গরীব ও দুঃস্থ নাগরিকদের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। বিশেষ করে ভবঘুরে ও ভিখারিদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। রাস্তায় লোক না বেড়োনোয় দৈনিক গ্রাসাচ্ছদনের ব্যবস্থাই হচ্ছে না তাঁদের। তবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু মানুষ এগিয়ে আসছেন তাঁদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য। মানবিকতার চুরান্ত নিদর্শণ দেখিয়ে তাঁরা রোজই নিজেদের প্রাণের মায়া কাটিয়ে রাস্তায় বের হয়ে গরীব, দুঃখী, ভিখারি ও ভবঘুরেদের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ একাকী থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের খাবার, ওষুধের ব্যবস্থা করছেন নিয়মিত।
মুর্শিদাবাদের প্রান্তিক গ্রাম সোনাফাড়ই ও কয়থা। এখানকার কয়েকজন যুবক ১৩০টি দুঃস্থ পরিবারের দৈনন্দিন খাবার জোগানের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন। তাঁরা ওই পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করে প্রতিদিন চাল, ডাল, সবজি, মাছ, ডিমের মতো ১৮টি সামগ্রী বিতরণ করছেন। লকডাউনের জন্য কাজ হারানো ওই পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার ক্ষমতা ছিল না। এই খবর শোনার পরই এগিয়ে আসেন ওই যুবকেরা। তাঁদের সাহায্যও করছেন ওই দুই গ্রামের মানুষেরাও।


উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির মাদরাল রামকৃষ্ণ সেবা সমিতি, তাঁরা দুঃস্থ ব্যক্তিদের শুধু চাল-ডাল দিচ্ছেন না, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীও তুলে দিচ্ছেন লকডাউন চালু হওয়ার পর থেকে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক রামকৃষ্ণ পাঁজা জানালেন, সপ্তাহে দুদিন সংগঠনের তরফে মাস্ক ও সাধারণ ওষুধের পাশাপাশি ব্লাড প্রেসার, সুগার, থাইরয়েডের ওষুধও দিচ্ছেন তাঁরা। আগে থেকে এসে প্রেসক্রিপশন জমা দিলেই প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে দিচ্ছে এই সংগঠন। এছাড়া, এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষদের চাল, মুড়ি, বিস্কুটের মতো কয়েকটি খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত বিলি করছে নৈহাটির রামকৃষ্ণ সেবা সমিতি।


একইভাবে লকডাউনের জেরে দমদম আন্ডারপাসের নীচে আশ্রয় নিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন ভবঘুরে ও ভিখারি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় এসে আটকে পড়া কয়েকজন মানুষও এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খাবার, পানীয় জলের অভাবে ধুঁকতে থাকা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল কলকাতা চেতনা ফাউন্ডেশন নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকরা রান্না করা খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করতেই মুখে হাসি ফোটে ওই অসহায় মানুষদের। এরপর আশেপাশের এলাকার ভবঘুরে ও ভিখারীদেরও দমদম আন্ডারপাসে জড়ো করে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংখ্যাটা একশো ছাড়িয়ে যায়। এরপর ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ কর্তাদের সাহায্যে তাঁদের দমদম প্রাচ্যবাণী স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয় তাঁদের। রোজই দুবেলা রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে ওই ত্রাণশিবিরে। এগিয়ে আসছেন সাধারণ মানুষও। পাশাপাশি কলকাতা চেতনা ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা এগিয়ে এসেছেন শহরে একাকী থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সহায়তায়। পুলিশ প্রশাসন তরফে ও নিজেদের উদ্যোগে খবর নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের কাছে। সরবরাহ করছেন শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।