রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিলেন, রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ৬১ জন। এদের মধ্যে ৫৫ জনই ৭টি করোনা আক্রান্তের পরিবারের সদস্য। ফলে বাইরে সংক্রমণ বেশি হয়নি এই রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানিয়েছেন, রাজ্যে করোনা পজিটিভ কেসের ৯৯ শতাংশই বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস ছিল। বা অন্য রাজ্য থেকে এসেছিলেন। তিনি এদিন হিসেব দিয়ে জানান, নদিয়ার তেহট্টের ৫ জন, কালিম্পংয়ের ১১ জন, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার ১২ জন, কমান্ড হাসপাতালের আক্রান্ত চিকিৎসকের পরিবারের ৫ সদস্য, হাওড়ার ৮ জন, এবং হলদিয়ার ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন পরিবারের মধ্যেই। পাশাপাশি কলকাতায় আক্রান্ত হয়েছেন ১২ জন। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, রাজ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ জন। এরমধ্যে মাত্র ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে।
পাশাপাশি তিনি এদিন একটি গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড তৈরি করার ঘোষণা করেছেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বোর্ডে থাকবেন। নেতৃত্ব দেবেন চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, রোগ নির্ণয়ের পথ খুঁজছে সরকার। এরমধ্যেই ১৩ জন সুস্থ হয়েছেন। তাই আশার আলো দেখাচ্ছে এই রাজ্যে। বেলেঘাটা আইডি ও এসএসকেএম ভালো কাজ করছে। তবে তিনি এদিন ফের একবার কেন্দ্রের অসহযোগিতার প্রসঙ্গ তোলেন। মাস্ক, পিপিই ও কেন্দ্রীয় সাহায্য যা চাওয়া হয়েছিল তা দেয়নি বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবুও রাজ্যে নিজের চেষ্টায় ১১ লক্ষ পিপিই জোগার করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এবার হয়তো আর কেউ রাজনীতি করবেন না। কারণ সোশাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য তুলে ধরে ভুয়ো প্রচার চালাচ্ছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের আইটি সেল। তাঁর কথায়, কিছু রাজনৈতিক দলের আইটি সেল স্বাস্থ্যভবনের বুলেটিন বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে ভুল পথে চালিত করছে।