অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারে ভর করে শিলের ওপর দাঁড়িয়ে যায় নোড়াও? আর সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই ভক্তি ভরে শুরু করে দিলেন পুজো-আর্চা। সেই খবর চাউর হতেই ভিড় জমালেন এলাকাবাসী। ফলে লকডাউনের মধ্যেই হল জমায়েত। করোনা ভাইরাসের থাবা যতই চেপে বসছে দেশবাসীর মধ্যে ততই জেগে উঠছে অন্ধবিশ্বাস। এমনই এক ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলি থেকে আসানসোলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। হঠাৎ করেই এলাকায় এলাকায় খবর রটে যায়, রান্নার মশলা পেশাইয়ের শিলের ওপর নোড়া দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ব্যাস, হুজুগে বাঙালি মেতে উঠল পুজো-আর্চায়। লকডাউন, সোশাল ডিসট্যান্সিং ভুলে জনে জনে ছুটলেন সেই সমস্ত বাড়িতে। গুজব ছড়াল করোনা মোকাবিলার এটাই একমাত্র উপায়। এরপরই শুরু হয় শিল-নোড়া পুজো। আর ফের একবার সমাজের কুসংস্কারগুলি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই বিজ্ঞানের যুগেও মানুষ কতটা অন্ধবিশ্বাসী।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, রবিবার রাত ৯টায় ঘরের আলো নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে দেখি শিলের ওপর নোড়াটি সটান দাঁড়িয়ে আছে। কোনও হোলদোল নেই। আশেপাশের কয়েকজনকে ডেকে দেখাতেই সকলে বলতে শুরু করেন, স্বয়ং মহাদেব এসেছেন। এরপরই রটে যায় এলাকায়। ফলে মহাধুমধামে শুরু হয় শিবের পুজো। কেউ ওই শিল-নোড়াতে তেল মাখিয়েছেন, কেউ ঘি। সিঁদুর-ধান-দুব্বো দিয়েও পুজো করেন, প্রদীপ জ্বালেন অনেকে। রাতেই দ্রুততার সঙ্গে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ে পাশের জেলাতেও। অনেকেই মোবাইলে এই ‘অলৌকিক’ ঘটনার ছবি-ভি়ডিও সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে থাকেন। ফলে হুগলি ছাড়িয়ে আসানসোল অঞ্চলেও একই দৃশ্য দেখা যায়। যদিও বিজ্ঞান মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে অলৌকিকতার কোনও ব্যাপার নেই। পৃথিবীর মাধ্যকর্ষণ শক্তির ফলেই এটা হয়। এটা মানুষের অন্ধবিশ্বাস, দৈব শক্তির কোনও ব্যাপার নেই।