পরিসংখ্যান বলছে, করোনায় মহিলাদের থেকে পুরুষদেরই মৃত্যু হচ্ছে বেশি। যেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এমন পুরুষের সংখ্যা ২.৮ শতাংশ, সেখানে মৃত মহিলাদের অনুপাত ১.৭ শতাংশ। ইতালিতে মৃতের ৭.২ শতাংশ পুরুষ, ৪.১ শতাংশ মহিলা। দক্ষিণ কোরিয়ায় মহিলা আক্রান্তের সংখ্যা তুলনায় বেশি হলেও মৃতদের ৫৪ ভাগই পুরুষ। এর আগে সার্স, মার্সের সময়ও একই জিনিস দেখা গিয়েছিল।


কেন ভাইরাসের এই লিঙ্গবৈষম্য? একটা তত্ত্ব হল, পুরুষরা তুলনায় বেশি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন। ফলে তাদের ক্রনিক রোগও হয় বেশি। করোনায় মৃতদের বেশিরভাগেরই ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে। পুরুষদের ধূমপান ও মদ্যপান বিপদ বাড়াচ্ছে আরও। সারা দুনিয়ায় মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা পাঁচগুণ বেশি ধূমপান ও মদ্যপান করে। চিনে ধূমপায়ীদের ৫০ ভাগ পুরুষ, মাত্র ৩ ভাগ মহিলা।
এছাড়া, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ক্ষেত্রেও অনেক এগিয়ে মহিলারাই। আমেরিকার একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শৌচের পর মাত্র ৩১ শতাংশ পুরুষ হাত ধোয়, মহিলারা ৬৫ শতাংশ। তবে আক্রান্তের সংখ্যা যেহেতু প্রায় সমান. তাই মৃতের সংখ্যা দিয়ে এই হাত ধোয়া তত্ত্ব দাঁড় করানো যায় না।


দ্বিতীয়ত, পুরুষরা তাদের রোগ সম্পর্কে উদাসীন। মহিলারা নয়। পুরুষরা রোগ স্বীকার করে ডাক্তারদের কাছে যেতে চায় না। তারা অন্যের সাহায্যও নেয় না। তাই করোনার ক্ষেত্রেও মহিলারাই পুরুষদের আগে ডাক্তারদের পরামর্শ নিচ্ছেন। করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেল তবেই পুরুষরা ডাক্তারদের কাছে যাচ্ছে। তাছাড়া, বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, মহিলারা ভাইরাস সংক্রমণ তাড়াতাড়ি কমাতে পারছেন। তাছাড়া, মহিলাদের হরমোনও করোনা ঠেকাতে সাহায্য করছে। মহিলাদের দেহে বাড়তি এক্স ক্রোমোজমও একটা কারণ হতে পারে।