করোনা সংক্ৰমণ রুখতে সুন্দরবনের ঝড়খালির বাঘমারি এলাকার বাসিন্দা বাসুদেব মিস্ত্রি তাঁর পরিবার নিয়ে কয়েকদিন ধরে পুকুরের উপর মাচা বেঁধে বসবাস করছেন। তিনি পরিবার নিয়ে কলকাতার মুকুন্দপুরে থাকতেন এবং দিনমজুরের কাজ করতেন। তিনি লকডাউনের দিন থেকেই দেশের বাড়ি ঝড়খালি পরিবার নিয়ে ফিরেছেন এবং সেইদিন থেকেই পুকুরের উপর মাচা বেঁধে রয়েছেন। সেখানেই রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া, রাত্রিযাপন সবকিছুই। রান্নার বাজারের প্রয়োজন হলে তাঁর ভায়েরাই সবকিছু বাজার করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। যতদিন না লক ডাউন কাটছে ততদিন তাঁরা ওখানেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা রমেশ। ঝড়খালিতে এসে সঙ্গীদের সাথে সুন্দরবনের নদী, খাঁড়িতে মাছ কাঁকড়া ধরতে যান তিনি। এবারও এসেছিলেন দিন পনেরো আগে। সুন্দরবনের নদী, খাঁড়ি থেকে মাছ ধরে যখন ঝড়খালিতে ফিরেছিলেন তাঁরা তখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে লকডাউন। গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। ফলে হাবড়ার বাড়িতে ফেরা হয়ে ওঠেনি তার। অন্যদিকে করোনা আতঙ্কের জেরে এখানকার সঙ্গীরাও তাকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিতে চাননি। অগত্যা নৌকার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন রমেশ। রমেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও গ্রাম পঞ্চায়েত। তাদের তরফ থেকে চাল, ডাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তার নৌকায়। সেখানেই এগুলি রান্না করছেন তিনি।
ঝড়খালি ৩ নম্বরের বাসিন্দা তাপস শিকদার ভিন রাজ্যে কাজ করতেন। বরানগরে প্রায় তিনমাস ছিলেন। গত কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তবে নিজের বাড়িতে নয়, তিনি লোকালয় থেকে কিছুটা দূরে এক পরিত্যক্ত বাগানে দিন কাটাচ্ছেন। দিনে দুবেলা খাবার তার মা এসে দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, যেহেতু উনি ভিন রাজ্যে থেকে এসেছেন, তাঁর শরীরে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকতেই পারে। তাই স্বেচ্ছা একান্তবাস। তবে তিনি এখনও পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনওরকম চিকিৎসা করাননি।