বাঙালিদের নাকি পায়ের তলায় সর্ষে। ফলে সুযোগ পেলেই দূরে অথবা কাছেপিঠে ঘুরতে বেড়িয়ে পড়েন এমন বাঙালি যত্রতত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। সেটাকে কাজে লাগাতে উদ্যোগী রাজ্য পর্যটন দফতর। প্রায় নিয়ম করেই নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে পর্যটন দফতর। এবার মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে পর্যটন দফতরের উদ্যোগে ই-সাইকেল পরিষেবা চালু করতে চলেছে স্থানীয় প্রশাসন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য সুখবর। মন্দির নগরী বিষ্ণুপুরে ঘুরতে এসে টোটো, রিক্সা বা ছোটো গাড়ির জন্য অপেক্ষা করার দিন শেষ। চাইলেই নিজের মর্জি মতো সাইকেল চালিয়ে এক লহমায় ঘুরে নিতে পারেন গোটা শহর। বিশেষভাবে নির্মিত এই সাইকেলগুলি প্যাডেল করে অথবা ব্যাটারির সাহায্যে আরামেই ঘুরে বেড়াতে পারবেন বিষ্ণুপুরের বিভিন্ন এলাকা। পর্যটকদের সুবিধার্থেই মহকুমা প্রশাসনের তরফে চালু করা হয়েছে ই-সাইকেল পরিষেবা।

বাঁকুড়ায় একান্তে জঙ্গলের খোলা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য যেমন চালু হয়েছে হ্যামক, তেমনি এলাকার কুটির শিল্পের বিপণনের জন্য প্রতি শনিবার পোড়ামাটির হাটও বসে। এছাড়াও লালবাঁধের জলে নৌকা বিহার, বালুচরী হাট, সঙ্গীত সম্মেলন ইত্যাদির ব্যবস্থাও রয়েছে বাঁকুড়ায়। এবার সেই তালিকায় নবতম সংযোজন ই-সাইকেল পরিষেবা। এই পরিষেবায় পর্যটকদের সুবিধার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে বলে জানান মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল। মূলত তাঁরই মস্তিস্কপ্রসুত এই পরিষেবা। মানস মণ্ডল এখানে মহকুমাশাসক হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই প্রাচীণ এই শহরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। মহকুমা শাসকের অভিনব এই ভাবনায় খুশি পর্যটকরাও। বিশেষ সাইকেলে চেপে শহরে ঘোরার ফাঁকে স্থানীয় বাসিন্দা মনীষা ঘোষ চৌধুরী, প্রিয়াগ্নি চট্টোপাধ্যায়রা বলেন, খুব ভালো উদ্যোগ। এই ধরণের সাইকেলে প্যাডেল করার পাশাপাশি ব্যাটারির সাহায্যেও চলবে। ফলে বিষ্ণুপুরে ই-সাইকেল চালু হওয়ায় পর্যটকদের আরও ভিড় জমবে বলে আশাবাদী সকলেই।