লকডাউনের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন বাজার-হাটে ভিড় হচ্ছে অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই। ফলে লকডাউনের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশ প্রশাসনের তরফে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। জেলায় জেলায় বিভিন্ন বাজারে ও সবজির হাটে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। পাশাপাশি রাস্তায় চলছে নাকা চেকিং। তবুও এদিন দিনভর দেখা গেল জমায়েতের খন্ডচিত্র। শনিবার মালদা জেলার ইংলিশবাজারে অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। লকডাউনে উপযুক্ত কারণ ছাডা়ই রাস্তায় বের হওয়ার জন্যই এই আটক। লকডাউনের মধ্যেই চা বিক্রি ও টোটো নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার কারণে উত্তর ২৪ পরগণার হাবরায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইভাবে গোবরডাঙ্গা থানার পুলিশও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। উত্তরবঙ্গের মালবাজারেও গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ৪০ জন মানুষকে। জলপাইগুড়ি জেলা জুড়েও শুক্রবার থেকে শনিবার পর্যন্ত লকডাউন অমান্য করায় ৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।

অপরদিকে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর শহরে জমায়েত হটাতে গেলে জনতা পুলিশ খন্ডযুদ্ধ বেধে যায়। এই নিয়ে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ইসলামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মায়া সিনেমা হল সংলগ্ন বস্তি এলাকায় অভিযুক্তদের ধরতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে স্থানীয় জনতা। জনতার ছোড়া ইটে গুরুতর জখম বেশকয়েকজন পুলিশ কর্মী। ঘটনার জেরে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় রাফ কমব্যাট ফোর্স। তবে বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। উত্তর ২৪ পরগণা বারাসত জেলা পুলিশ সুপার শনিবার সকাল থেকেই বেস কয়েকটি হাটে হানা দিয়েছেন। তিনি আমডাঙা, গাদামারা ও বারাসত সংল্গ্ন কয়েকটি বড় বাজার ও সবজির হাটে যান। জমায়াতকারীদের সঙ্গে কথা বলেই তাঁদের বাড়ি ফিরিয়ে দেন। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, কয়েকদিন ধরেই আমাদের কাছে অভিযোগ আসছিল যে বাজার হাটে ভিড় হচ্ছে। তাই আজ অভিযান চালানো হয়েছে। মানুষদের বোঝানো হল, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখতে পারলে সমস্যা ও সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে।