করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে গোটা দেশেই চলছে ২১ দিনের লকডাউন। ফলে তলানিতে রোজগার। এরওপর করোনা মোকাবিলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড, করোনা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকর্মীদের মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই, খাওয়ার ব্যবস্থা প্রভৃতি করতে খরচ হচ্ছে দেদার। এই পরিস্থিতেতে নাজেহাল রাজ্য প্রশাসন। ফলে ব্যয়সঙ্কোচ নীতি নিল প্রশাসন। এখন থেকে রাজ্য সরকার করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা, বেতন-পেনশন, সরকারি ভাতা দেওয়ার প্রকল্প ছাড়া আর কোনও খাতেই খরচ করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবারই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের অর্থমন্ত্রক। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষে যে যে দফতরের হাতে খরচ না হওয়া যা টাকা পড়ে রয়েছে সেই টাকা অবিলম্বে অর্থ দফতরে ফেরত পাঠাতে। ফলে এবার থেকে বাকি টাকা শুধুমাত্র করোনা মোকাবিলা ও চিকিৎসা খাতেই খরচ করা যাবে। তবে অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের পূর্ত, সেচ দফতরের মতো পাঁচটি দফতরের হাতে ১ কোটি টাকার আপাৎকালীন তহবিল রাখা থাকবে। এই খাতে এতদিন ১০ কোটি টাকা থাকত। বাকি ৪৫টি দফতরের খরচের উর্ধ্বসীমা ১০ লক্ষ টাকা বেধে দিয়েছে রাজ্য। তবে প্রয়োজন পড়লে এর বেশি টাকা অর্থমন্ত্রকের অনুমোদন সাপেক্ষে খরচ করা যাবে।

অর্থমন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, আপাতত সরকারি পদে নিয়োগ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন কোনও প্রকল্পও চালু করা হবে না। সরকারি দফতরের জন্য গাড়ি, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, এসি, ওয়াটার কুলারের মতো সামগ্রী কেনা বা বরাত দেওয়াও বন্ধ। কোনও সরকারি ভবন সংস্কারের কাজে হাত দিতে পারবে না সংশ্লিষ্ট দফতর। পাশাপাশি, রাজ্যের আইএএস-আইপিএস অফিসারদের বাড়ি তৈরির অগ্রিম দেওয়া বন্ধ রাখা হল। বিমানে ইকোমনি ক্লাসেই যাতায়াত করতে হবে সরকারি আধিকারিকদের। তবে চালু থাকা কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প, বিদেশী ব্যাঙ্কের অর্থ সাহায্যে চলা প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যশ্রী, জয় বাংলা পেনশন প্রকল্প, সামাজিক সুরক্ষা যোজনা, শিক্ষাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, বাংলা ফসল বিমা যোজনার মতো সামাদিক প্রকল্পগুলি চালু থাকবে।