করোনার জেরে রাজ্যের ভাড়ারে মা ভবানী। এই আবহে ব্যয় সঙ্কোচের নীতি নিতে বাধ্য হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। বন্ধ রাখা হয়েছে নতুন নিয়োগ ও সরকারি প্রকল্প। তবে নবান্নকে অনেকটাই স্বস্তি দিয়ে বকেয়া টাকার একটা বড় অংশ মিটিয়ে দিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের দফতর ট্যুইট করে রাজ্যগুলির বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার হিসাব দিয়েছে। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নামও রয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, রাজ্যের বকেয়া টাকা দ্রুত মিটিয়ে দিক কেন্দ্র। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় রাজ্যকে অতিরিক্ত ২৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হোক। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছিলেন, লকডাউনের জেরে রাজ্যে বন্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য কল-কারখানা বন্ধ। ফলে রাজস্ব আদায়ের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব ও জিএসটি ঘাটতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্যের বকেয়া টাকা দ্রুত মিটিয়ে দিয়ে রাজ্যের বোঝা কমাক কেন্দ্র। তবে এই দাবি পশ্চিমবঙ্গ বাদে অন্যান্য রাজ্যগুলিও করেছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। গতকালই কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রক জানিয়ে দিল ১৪টি রাজ্যকে রাজস্ব ঘাটতির একটা বড় অংশ মিটিয়ে দেওয়া হল। রাজ্যগুলিকে এই খাতে ৬ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বাংলার ভাগ্যে জুটেছে ৪১৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিলে রাজ্যগুলির প্রাপ্য থেকেই দেওয়া হয়েছে আরও ১১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। এতে পশ্চিমবঙ্গের ভাগে এসেছে ৫০৪ কোটি ৫ লক্ষ টাকা। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভাঁড়ারে এল প্রায় ৯২৩ কোটি টাকা। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির কাছে এই অঙ্ক অনেক কম। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এই টাকাও রাজ্যের ভাঁড়ারে মহার্ঘ হয়ে দাঁড়াবে।