করোনা মোকাবিলায় হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত মাস্ক, কিট, গ্লাভস, ও পিপিই। ফলে কার্যত প্রাণ হাতে করেই পরিষেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতালের কর্মরত নার্স, জুনিয়র ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মীদের। বারে বারে উচ্চতর আধিকারিকদের কাছে চেয়েও উপযুক্ত মাস্ক ও পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই পাচ্ছেন না তাঁরা। এই দাবিতে কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল এমআর বাঙুরে বিক্ষোভ দেখালেন তাঁরা। দক্ষিণ কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রোগীরা আসেন রেফার হয়ে। এই বিপুল পরিমাণ রোগীর চাপ থাকা সত্বেও এই হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে পরিনণত করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন। এই ব্যাপারেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন হাসপাতালের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন এই হাসপাতালে। বিশেষ করে প্রসূতিদের ভিড় জমে প্রতিনিয়ত। যদি এই হাসপাতালকে করোনা হাসপাতালে পরিণত করা হয় তবে প্রসূতি সহ অন্যান্য রোগীদের কী হবে? প্রশ্ন তুলছেন এই হাসপাতালে কর্মরত জুনিয়র ডাক্তাররা। পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য, একটা মেডিকেল কলেজের মতো সুযোগসুবিধা নেই এখানে। এমআর বাঙুরে কর্মরত আয়া, সাফাইকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরাও এদিন বিক্ষোভে সামিল হয়। তাঁদের বক্তব্য, এখানে করোনা ভাইরাসের মতো অতি সংক্রামক ভাইরাস ঠেকানোর উপযুক্ত পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস নেই। ফলে তাঁরা চিন্তিত, যদি এই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী আসতে শুরু করেন তবে তাঁরাও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারেন। যদিও এদিন নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, এমআর বাঙুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে ওই হাসপাতালের রোগীদের পিজি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা শুরু হয়েছে। বাঙুর হাসপাতালে করোনা মোকাবিলার সমস্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।